'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬'-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বাণী
একটি সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলা সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার। একটি সুস্থ, উদ্যমী ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশই বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির ভিত্তি। তাই সরকার ক্রীড়াকে কেবল শরীরচর্চা, বিনোদন অথবা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বরং পেশা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে। এরই অংশ হিসেবে তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন চলছে। গত ২ মে ২০২৬ ঐতিহ্যবাহী সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬'-এর উদ্বোধন হয়েছিল। এরপর যথারীতি সারাদেশে আটটি ইভেন্টে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ২৭ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশব্যাপী আয়োজিত 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬'-এর প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
আমি বিশ্বাস করি, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের এই বর্ণিল আয়োজন একটি কার্যকর ও টেকসই ভিত্তি রচনা করবে। দেশের ক্রীড়া বিকাশে এই সময়োপযোগী ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।
আজকের শিশু-কিশোর তারুণ্যই আগামীর বাংলাদেশ। তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ক্রীড়া মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহিষ্ণুতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়।
'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, পরিচর্যা ও বিকাশের একটি কার্যকর জাতীয় কাঠামো গড়ে উঠছে। আমি বিশ্বাস করি, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতের জাতীয় দল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
আমাদের সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হলো দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা এমন একটি ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম ও যোগ্যতাই হবে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড।
নতুন কুঁড়িকে আরও সমৃদ্ধ এবং প্রাণবন্ত করতে আরও কয়েকটি নতুন ইভেন্ট যুক্ত করা হবে। 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২০২৭' আসরে টেবিল টেনিস ও ভলিবল সংযোজনের মাধ্যমে ইভেন্টের সংখ্যা ১০-এ উন্নীত হবে। একই সঙ্গে অধিকসংখ্যক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১২-১৪ বছর থেকে সম্প্রসারণ করে ১০-১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এর এই খুদে খেলোয়াড়রাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে গৌরবের সঙ্গে বহন করবে, দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।
আমি 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬'-এর প্রথম আসরে অংশগ্রহণকারী সকল খুদে ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে আবারও আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬'-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।