ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : গতরাতে ফুটবল বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিধারনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। দশ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান পায় ইংলিশরা। হ্যাটট্রিক করে ইংল্যান্ডের জয়ে অবদান রাখেন বুকায়ো সাকা।
ফ্রান্সের হার এড়াতে না পারলেও জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে টপকে শীর্ষে উঠেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মেসির ২১ গোলকে টপকে ২২ গোল নিয়ে সবার উপরে এখন এমবাপ্পে।
চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি দশ গোল করেছেন এমবাপ্পে। তাই গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে শীর্ষে আছেন এমবাপ্পেই। ৮ গোল নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন মেসি।
এই আসরে মেসির চেয়ে ৫৭ মিনিট বেশি সময় খেলেছেন এমবাপ্পে। এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুট জিততে ফাইনালে হ্যাটট্রিক বা দুই গোল ও এক এ্যাসিস্ট করতে হবে মেসিকে।
বিশ্বকাপের এক আসরে ১০ বা ততোধিক গোল করা চতুর্থ ফুটবলার এমবাপ্পে। ৫৬ বছর আগে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ১০ গোল করেছিলেন পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলার।
এবারের বিশ্বকাপে মোট ১৪ গোলে অবদান রেখেছেন এমবাপ্পে। ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। শেষ ৬০ বছরে যে কোনো আসরে সবচেয়ে বেশি গোলে অবদান রাখার ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছেন এমবাপ্পে।
সেমিফাইনাল ছাড়া বিশ্বকাপের প্রতিটি পর্বে গোল আছে এমবাপ্পের (গ্রুপ পর্ব, শেষ বত্রিশ, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার-ফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচ ও ফাইনাল)। ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপের তিন সেমিফাইনাল খেলে কোনো গোল করতে পারেননি তিনি।
ফ্রান্স-ইংল্যান্ড মিলে তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে ১০ গোল করেছে। বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে এটাই সবচেয়ে বেশি গোলের নজির। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্স ও পশ্চিম জার্মানি মিলে ৯ গোল করেছিল (ফ্রান্স ৬-৩ পশ্চিম জার্মানি)। ৬৮ বছর পর তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড গড়ল ফ্রান্স-ইংল্যান্ড।
এছাড়া ১৯৮২ সালের পর বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোলের ঘটনা ঘটল। ঐ আসরে এল সালভাদরকে ১০-১ গোলে হারিয়েছিল হাঙ্গেরি।
এবারই প্রথমবার তৃতীয় স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করল ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে শিরোপা জয়ের পর বিশ্বকাপে এটিই ইংলিশদের সেরা সাফল্য।
বিশ্বকাপ জয়ের পর আরও দুইবার তৃতীয় স্থানে থাকার সুযোগ ছিল ইংল্যান্ডের। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে তারা। ২০১৮ সালে বেলজিয়াম এবং ১৯৯০ সালে ইতালির কাছে হারে ইংলিশরা। ঐ দুই ম্যাচই ২-১ গোলে হেরেছিল তারা।
বিশ্বকাপের এক আসরে ইংল্যান্ডের ফুটবলার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৭ গোল করেছেন জুড বেলিংহাম। ১৯৮৬ সালে ৬ গোলের রেকর্ড ছিল গ্যারি লিনেকারের। দুই জনের কেউই পেনাল্টি থেকে কোন গোল করেননি।
চতুর্থ ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছেন বুকায়ো সাকা। এর আগে হ্যাটট্রিক করেন জিওফ হার্স্ট (১৯৬৬ সাল, জার্মানির বিপক্ষে), গ্যারি লিনেকার (১৯৮৬ সাল, পোল্যান্ডের বিপক্ষে), হ্যারি কেন (২০১৮ সাল, পানামার বিপক্ষে)।
বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি এ্যাসিস্টে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলেকে পেছনে ফেলেছেন ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে। এবারের আসরে ৭টি এ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে (শেষ ৬০ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী) ৬ এ্যাসিস্ট করেছিলেন পেলে।
ওলিসের এ্যাসিস্টে এবার পাঁচ গোল করেছেন এমবাপ্পে। সর্বশেষ ৬০ বছর বিবেচনায় বিশ্বকাপের এক আসরে একই খেলোয়াড়কে সর্বোচ্চ এ্যাসিস্টের নয়া কীর্তি।
২০১০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছিল ফ্রান্স। ১৬ বছর পর বিশ্ব মঞ্চে আবারও টানা দুই ম্যাচ হারল ফরাসিরা। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে হারল ফ্রান্স।
কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশ্যমের অধীনে ১৪ বছরে ২৬ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছে ফ্রান্স। যা কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে দায়িত্ব পালনের নয়া রেকর্ড।
চলতি আসরে ১০৩ ম্যাচে ৩০৭ গোল হয়েছে। ম্যাচ প্রতি গোলের গড় ২.৯৮ টি করে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের পর এবারই ম্যাচ প্রতি গোল গড় সবচেয়ে বেশি।
৫৮ বছর পর প্রথম প্রথমার্ধে চার ম্যাচে গোল হজম করে ফ্রান্স। সর্বশেষ ১৯৬৮ সালে ইউরো বাছাইপর্বে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে চার গোল হজম করেছিল তারা।
ইংল্যান্ডের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে যে কোনো ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে একটি করে গোল ও এ্যাসিস্ট করেছেন ডেক্লান রাইস।








