ঢাকা, ১৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামার মাধ্যমে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে নামা সবচেয়ে বেশি বয়সি খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে স্পেনের লামিন ইয়ামালের লক্ষ্য, কিশোর বয়সেই বিশ্বকাপজয়ীদের অভিজাত তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচটি হবে আর্জেন্টিনার মেসি এবং বার্সেলোনার নতুন প্রতিভা হিসেবে তার উত্তরসূরি হয়ে ওঠা ইয়ামালের প্রথম মুখোমুখি লড়াই।
মেসির চেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার একমাত্র ফুটবলার হলেন ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক দিনো জফ, যিনি ১৯৮২ সালে ৪০ বছর বয়সে ফাইনাল খেলেছিলেন।
অন্যদিকে ইয়ামাল গত সোমবার ১৯ বছরে পা দিয়েছেন। তার পরদিনই স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারায়।
ইয়ামালের ক্যারিয়ারে সবকিছুই ঘটেছে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে অভিষেক হয় তার।
১৬ বছর বয়সে স্পেন জাতীয় দলে প্রথম ম্যাচ খেলেন তিনি। আর ১৭তম জন্মদিন উদযাপনের পরপরই তিনি স্পেনকে ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জিততে সাহায্য করেন। ওই আসরে তিনি সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
গত বছরের ব্যালন ডি'অর পুরস্কারে ওসমানে ডেম্বেলের পরে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন ইয়ামাল। এবার তার সামনে সুযোগ এসেছে কিশোর বয়সেই বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারদেও এলিট ক্লাবে যোগ দেওয়ার।
ইয়ামাল সম্পর্কে মেসি বলেন, "মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্বব্যাপী এক আইকনে পরিণত হয়েছে এবং ইতিহাস গড়ার সুযোগ তার সামনে। তবে আমরা তাকে থামাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"
বিশ্বকাপের আগে ইয়ামাল চোটে পড়েছিলেন। এমনকি বার্সেলোনার মৌসুমের শেষ ভাগে খেলতে না পারায় তার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে ইয়ামালকে বদলি হিসেবে নামানো হয়েছিল। এরপর সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে গোল করলেও বিরতির সময় তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।
এরপর থেকে তিনি প্রতিটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন, যদিও নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রভাব রাখতে পারেননি।
ফলে ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে ভয়ঙ্কর করে তোলা সরাসরি আক্রমণাত্মক ধার কিছুটা কম দেখা গেছে। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে ইয়ামাল শুরুর একাদশেই থাকবেন।
১৯ বছর ৬ দিন বয়সে ইয়ামাল বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা ইতিহাসের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হতে যাচ্ছেন। তার সতীর্থ পাও কুবারসি ইয়ামালের চেয়ে ছয় মাসের বড়। বিশ্বকাপ চলাকালে স্পেনের কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে ইয়ামালকে সালভাদর দালি কিংবা মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর মতোই একজন "প্রতিভাবান বিস্ময়" বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "ওরা আলাদা। আমাদের কাছে যা অসাধারণ, তাদের কাছে তা স্বাভাবিক।"
ইয়ামালের চেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন মাত্র দুজন ফুটবলার- ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে এবং ইতালির জিউসেপ্পে বার্গোমি।
১৯৫৮ সালের ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ে জোড়া গোল করা সময় পেলের বয়স ছিল ১৭ বছর ২৪৯ দিন।
অন্যদিকে ১৯৮২ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে হারানো ইতালির হয়ে খেলেছিলেন ১৮ বছর বয়সি জিউসেপ্পে বার্গোমি।
এ পর্যন্ত মাত্র আটজন ফুটবলার কিশোর বয়সে বিশ্বকাপ জিতেছেন। আর ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার কীর্তি আছে শুধু পেলে ও কিলিয়ান এমবাপ্পের। ২০১৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপ জেতার সময় এমবাপ্পের বয়স ছিল ১৯ বছর। কিন্তু এবার দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শেষ হয়ে যায়।
এবার ইয়ামালের লক্ষ্য মেসির দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে নিজেকে বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী বৈশ্বিক সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।








