ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৬ (বাসস) : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিজেদের সামর্থ্য ও দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজে বাংলাদেশ দলের মানসিকতায় লক্ষণীয় পরিবর্তন এবং গভীরতা ফুটে উঠেছে।
বিশেষ করে টাইগারদের পেস বোলিং ইউনিট প্রশংসার দাবীদার বলে জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।
ওয়ানডে সিরিজ শেষে মিরাজ বলেন, 'এই সিরিজে আমরা চাপের মুখে আমাদের গভীরতা ও দৃঢ়তা দেখিয়েছি।
দলের জয়ে সবাই অবদান রেখেছে। আমরা একটি দল হিসেবে খেলেছি এবং চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছি।'
মিরপুরে প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে এবং দ্বিতীয়টি বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে জিতে এক ম্যাচ বাকী থাকতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এতে টানা চতুর্থ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা।
তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বেঞ্চের শক্তিও পরীক্ষা করেছে বাংলাদেশ। এই পরীক্ষা করতে গিয়ে নাহিদ রানাকে বিশ্রাম দেয় বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। রানার জায়গায় সিরিজে প্রথম সুযোগ পেয়ে বল হাতে বাজিমাত করেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। ৪৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন শরিফুল।
ইনিংসের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে ফেলার পাশাপাশি শেষ দিকে পরপর দুই ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দেন শরিফুল। শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটে হারলেও শরিফুল বাহ্বা কুড়িয়েছেন। প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে অবদান ছিল পেসারদের।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের উন্নত পারফরমেন্স ও আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে বলে মনে করেন মিরাজ।
তার মতে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে নিয়ে সমীহ করছে। মিরাজ বলেন, 'আমরা তাদের কাছ থেকে সমীহ পাচ্ছি।
তারা আমাদের বোলার এবং ব্যাটারদের নিয়ে আলোচনা করছে। এমন পারফরমেন্সই আমাদের উন্নতির প্রমাণ দিচ্ছে।'
আগামী এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপেও পারফরমেন্সের ধারা অব্যাহত রাখার আশা করছেন মিরাজ।
দীর্ঘ দিন পর দলে ফিরেই ব্যাট-বল হাতে চমক দেখিয়েছেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৩ ইনিংসে দুই হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৫৭ রানের পাশাপাশি বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পান মোসাদ্দেক।
এছাড়া ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন তাওহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসরা। ৩ ইনিংস করে ব্যাট করে হৃদয় ১৫৪, শান্ত ১৩২ ও লিটন ৮৬ রান করেন।
এই সিরিজ ঘরের মাঠের কন্ডিশনে বাংলাদেশের কৌশলগত পরিবর্তনেও ভূমিকা রেখেছে। ধীরগতির উইকেটের পরিবর্তে স্পোর্টিং উইকেটে খেলছে টাইগাররা। সিরিজের শেষ ম্যাচ হারলেও, পুরো সিরিজ জুড়ে দলের পারফরমেন্সের উন্নতি ফুটিয়ে তুলেছে।








