ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৬ (বাসস) : লিওনেল মেসি ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ থেকে বিদায় নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি আবারও ফিরেছেন এবং এবারের বিশ্বকাপের মাধ্যমে তিনি ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পথে রয়েছেন।
অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড চার বছর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ২০২২ বিশ্বকাপই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।
কাতারে তিনি নিজের জাদুকরী নৈপুণ্যে দলকে শিরোপা জেতান। সাতটি গোল করেন, যার মধ্যে ফ্রান্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ফাইনালে দুটি গোলও ছিল।
সেই জয়ের পর মেসি বলেছিলেন, "স্পষ্টতই, আমি আমার ক্যারিয়ার এভাবেই শেষ করতে চেয়েছিলাম। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই।"
তখন মনে হয়েছিল, এটাই তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন এবং শেষ অধ্যায়। তবে এ মাসের শেষ দিকে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই ক্ষুদে জাদুকর স্বীকার করেছিলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে আরও কিছুদিন খেলতে চান। শেষ পর্যন্ত তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের আকর্ষণ এড়াতে পারেননি। গত মাসে কোচ লিওনেল স্কালোনি ঘোষিত ২৬ সদস্যের দলে তার নামও ছিল।
তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দেশ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।
গত সপ্তাহে আলাবামায় প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পর মেসি বলেন, "শুরু থেকেই আমি উপভোগ করছি। আমি খুশি, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি এবং সব সময়ের মতোই রোমাঞ্চিত।"
কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি খেলবেন কি না তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধোঁয়াশা ছিল। মেসি বলেন, "আগের বিশ্বকাপের পর আমি বলেছিলাম, এত বছর পরে আবার খেলাটা কঠিন হবে। তাই কিছুটা সন্দেহ ছিল।
কিন্তু আমি ভালো অনুভব করতে শুরু করি এবং প্রতিদিন এক ধাপ করে এগিয়েছি। খেলার সুযোগ পেয়েছি, ছন্দ ফিরে পেয়েছি, নিয়মিত মিনিট খেলেছি এবং নিজেকে ভালো অবস্থায় রেখেছি। সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে ঘটেছে।"
এটা স্পষ্ট যে মেসি আর তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের খেলোয়াড় নন। ২০২৩ সালে পিএসজিতে দুই মৌসুম হতাশাজনক সময় কাটানোর পর ইউরোপ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।
বর্তমানে তিনি ইন্টার মিয়ামির হয়ে মেজর লিগ সকারে খেলছেন। ফলে প্রতি সপ্তাহে ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় আর দেখা যায় না তাকে।
তবুও তার ফর্ম চমৎকার। ২০২৬ সালে ১৬ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন। গত বছর দলকে এমএলএস কাপ জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গত মাসে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ৬-৪ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ায় তার ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
তবে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ২০ মিনিট মাঠে নেমে পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি সেই উদ্বেগ অনেকটাই দূর করেন।
আটবারের ব্যালন ডি'অর বিজয়ী মেসি ২০২২ বিশ্বকাপের পরও আর্জেন্টিনার হয়ে আরও সাফল্য পেয়েছেন।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় অধিনায়ক হিসেবে দলকে শিরোপা জেতান। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।
সম্প্রতি মেসি বলেছেন, "আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, এবং যতদিন পারব ততদিন খেলব।"
মেসি প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন ২০০৬ সালে জার্মানিতে, তখন তিনি ছিলেন কিশোর। পরে ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নেতৃত্ব দেন, যদিও অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির কাছে হেরে যায় দল।
আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি মঙ্গলবার কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচ খেলবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো এবং কুয়েতের বাদের আল-মুতাভার পর তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
মেসির দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বী রোনাল্ডোও এবার নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন।








