ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংস থেকে পাওয়া ২৭ রানের লিডকে সাথে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে ৭৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছে বাংলাদেশ। ফলে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ১০৬ রানে এগিয়ে টাইগাররা।
প্রথম ইনিংসে ২৭২ রানের জবাবে ২৪৫ রানে অলআউট হয় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ১৩৮ রানে পিছিয়ে ছিল ক্যারিবীয়রা। ত্যাগনারায়ন চন্দরপল ৪৩ ও জাস্টিন গ্রেভস ১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
তৃতীয় দিন চন্দরপলকে ৫৬ রানে শিকার করেন বাংলাদেশ পেসার শরিফুল ইসলাম। গ্রেভসের সাথে পঞ্চম উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন চন্দরপল।
দলের রান ২শ পার হওয়ার পর বিদায় নেন গ্রেভস। ৪৬ রান করে নাইম হাসানের বলে লেগ বিফোর আউট হন তিনি।
দলীয় ২১৩ রানে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে গ্রেভস ফেরার পর বেশি দূর যেতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নাইমের ঘূর্ণিতে ২৪৫ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। ১১ রানে শেষ ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বল হাতে বাংলাদেশের নাইম ১০ দশমিক ৫ ওভার বল করে ৩৩ রানে ৪টি, মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম ২টি করে উইকেট নেন। এই ইনিংসের মাধ্যমে বাংলাদেশের দশম বোলার হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেট শিকারের ক্লাবে নাম লেখান নাইম।
এছাড়াও বলের হিসেবে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে কম ডেলিভারিতে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন নাইম। এতে ভেঙে গেছে আরেক স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের রেকর্ড।
৫০ উইকেট শিকার করতে নাইমের লেগেছে ১৬ টেস্ট তথা ২ হাজার ৮৫৬টি বল। ১৩ টেস্টে ৩ হাজার ৫১২ বল ডেলিভারিতে ৫০ উইকেট নিয়ে এতদিন রেকর্ডের মালিক ছিলেন মিরাজ।
প্রথম ইনিংস থেকে পাওয়া ২৭ রানের লিডকে সাথে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই ওপেনার তানজিদ হাসা মিকার হন ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার শামার জোসেফের।
দলীয় ১ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর দ্বিতীয় উইকেটে ২৭ রান যোগ করেন সাদমান ইসলাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। উইকেটে সেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ও অফ স্পিনার চেজের বলে আউট হন তারা। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান ১৩ ও শান্ত ১০ রান করেন।
চার নম্বরে নামা তাওহিদ হৃদয়কেও খালি হাতে বিদায় দেন চেজ। এরপর উইকেট শিকারে মাতেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁ-হাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানও। বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসকে ৪ রানে লেগ বিফোর আউট করেন ওয়ারিকান। এতে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
ষষ্ঠ উইকেটে ৪৮ বল খেলে উইকেট পতন ঠেকান মোমিনুল হকের কনকাশন সাব হিসেবে নামা জাকের আলি এবং মিরাজ। ১৮ রান যোগ করার পর জাকের-মিরাজ জুটি ভাঙেন ওয়ারিকান। ৯ রান করে ওয়ারিকানের বলে বোল্ড হন মিরাজ। ৫৩ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর সপ্তম উইকেটে ৪৪ বলে ২৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে গড়ে দিনের খেলা শেষ করেন জাকের ও নাইম। প্রথম দুই দিনের মত তৃতীয় দিনও আলোকস্বল্পতায় শেষ হয় খেলা। জাকের ও নাইম ১৮ রান করে অপরাজিত আছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেজ ৩টি ও ওয়ারিকান ২টি উইকেট নেন।







