ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : পেসার নাহিদ রানার দারুণ বোলিং ও ইয়াসির আলির হাফ-সেঞ্চুরির পরও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হার দিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করল সফরকারী বাংলাদেশ। আজ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের কাছে ৩২ রানে হেরেছে টাইগাররা।
প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রান করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ১৯ ওভারে ১৩৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। মাত্র ৮ রানে শেষ ৫ ব্যাটারকে হারায় টাইগাররা।
বুলাওয়ায়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। ব্যাট হাতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের উপর চড়াও হন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও টাদিওয়ানাশে মারুমানি। ২১ বলে ৩৭ রান তুলে দলকে ঝড়ো শুরু এনে দেন দু'জনে।
চতুর্থ ওভারে প্রথমবারের মত আক্রমণে এসেই জিম্বাবুয়ের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা। ওভারের তৃতীয় বলে ডিপ স্কয়ার লেগে সাইফ হাসানকে ক্যাচ দেন মারুমানি। ২টি ছক্কায় ৯ বলে ১৪ রান করেন মারুমানি।
দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে জিম্বাবুয়ের রানের চাকা সচল রাখেন বেনেট ও ডিওন মায়ার্স। এতে পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৫৪ রান পায় স্বাগতিকরা।
নবম ওভারে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন পেসার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ছক্কায় মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে বদলি ফিল্ডার রিশাদ হোসেনকে ক্যাচ দেন মায়ার্স। ২০ বলে ২০ রান করেন তিনি। বেনেটের সাথে ৩২ বলে ৩৮ রান যোগ করেন মায়ার্স।
দলের রান ১শ স্পর্শ করার আগে সাজঘরে ফিরেন বেনেট। হাফ-সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে রানার বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে তানজিদ হাসানকে ক্যাচ দেন তিনি। ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩০ বলে ৪৪ রান করেন বেনেট।
দলীয় ৯০ রানে বেনেটের বিদায়ের পর চতুর্থ উইকেটে ১৮ বলে ২৬ রানের জুটিতে জিম্বাবুয়ের রান ১শ পার করেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল। রাজাকে থামিয়ে জুটি ভাঙ্গেন সাইফুদ্দিন। লং অফে হৃদয়কে ক্যাচ দেন ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৩ বলে ২০ রান করা রাজা।
দলীয় ১১৬ রানে রাজার ফেরার পর জোড়া উইকেট তুলে নেন রানা। ১৮তম ওভারে পরপর দুই বলে মিল্টন শুম্বাকে ১১ ও তাশিঙ্গা মুসেকিয়াকে খালি হাতে বিদায় দিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান রানা। কিন্তু সেটি রুখে দেন ব্র্যাড ইভান্স।
সপ্তম উইকেটে ১৫ বলে ৩১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জিম্বাবুয়েকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন বার্ল ও ইভান্স। ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রান করে জিম্বাবুয়ে। ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৫ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন বার্ল। ৪ বাউন্ডারিতে ১০ বলে অনবদ্য ১৯ রান করেন ইভান্স।
৪ ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার রানা। ৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই সেরা বোলিং ফিগার রানার। এছাড়া সাইফুদ্দিন ৩৫ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ১৫ বলে ১২ এবং তানজিদ ৮ বলে ১৬ রান করে জিম্বাবুয়ের পেসার রিচার্ড এনগারাভার শিকার হন।
তিন নম্বরে নামা পারভেজ হোসেনকে ৫ রানে বিদায় দেন জিম্বাবুয়ের আরেক পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। চতুর্থ উইকেটে ২৯ বলে ৩৯ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ও ইয়াসির আলি। তবে দলীয় ৭৩ রানে এই জুটি ভাঙ্গেন জিম্বাবুয়ের স্পিনার মিল্টন শুম্বা। ১৩ বলে ১৪ রান করা হৃদয়কে শিকার করেন তিনি।
এরপর ক্রিজে এসে ৩ রানে রান আউট হন নুরুল হাসান। ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
ষষ্ঠ উইকেটে জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন ইয়াসির ও মাহেদি হাসান। ৩৭ বলে ৫২ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রাখেন দু'জনে। এই জুটিতে ১২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৩৩ বলে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ইয়াসির।
৩টি চারে ১৯ রান করা মাহেদিকে থামিয়ে জিম্বাবুয়েকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক-থ্রু এনে দেন মুজারাবানি।
দলীয় ১৩০ রানে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে মাহেদি ফেরার পর থেকে যাওয়ার আসার মিছিল শুরু করে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। এতে ১৯ ওভারে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। মাত্র ৮ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় তারা।
এক প্রান্ত আগলে লড়াই করা ইয়াসির দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন। তার ৩৮ বলের ইনিংসে ২টি চার ও ৩টি ছক্কা ছিল।
মুজারাবানি ও এনগারাভা ৪টি করে উইকেট নেন।
১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে আগামী ১৭ জুলাই বুলাওয়েতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।








