ঢাকা, ৭ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : পর্তুগালের কোচ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রবার্তো মার্টিনেজ। সোমবার স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলর ম্যাচে ইনজুরি টাইমে গোল হজম করে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। যদিও এই বিদায়কে 'ব্যর্থ' বলতে নারাজ মার্টিনেজ। ডালাসের এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৯১ মিনিটে বদলী খেলোয়াড় মিকেল মোরিনোর গোলে স্পেনের জয় নিশ্চিত হয়। এর মাধ্যমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ^কাপের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারেরও সমাপ্তি ঘটেছে।
২০২৩ সালে পর্তুগালের কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মার্টিনেজ। বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার সাথে চুক্তি করেছিল পর্তুগীজ ফুটবল ফেডারেশন। তার অধীনে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেও বিদায় নিয়েছিল পর্তুগীজরা।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মার্টিনেজ বলেন, 'এই পদে কাজ চালিয়ে যাবার এখন আর কোন অর্থ নেই। হ্যাঁ এটাই জাতীয় দলের সাথে আমার শেষ ম্যাচ। আমি গর্বিত। এই দলের সাথে ৪৫টি ম্যাচে আমি ছিলাম। পর্তুগালে আমি অনেক বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি, ভালবাসা পেয়েছি। এই স্মৃতি আমার সাথে সবসময়ই থাকবে। এটা সত্যিই গর্বের, আনন্দের ও একইসাথে দায়িত্ববোধের। বিষয়টা কঠিন, কিন্তু সময় শেষ হয়ে গেছে। আর এখনই আমার চলে যাবার সঠিক সময়।'
পর্তুগালের আগে বেলজিয়াম জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন মার্টিনেজ। এর আগে ক্লাব ফুটবলে এভারটন, উইগান ও সোয়ানসি সিটিকে পরিচালনা করেছেন।
এবারের আসরে অন্যতম সেরা প্রতিভাবান স্কোয়াড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে পর্তুগাল। মিডফিল্ডে ভিটিনহা, হুয়াও নেভেসের সাথে ব্রুনো ফার্নান্দেস, আক্রমনভাগে রোনালদোকে নিয়ে সাজানো দল নিয়ে অনেকেই আশাবাদী ছিল। কিন্তু শেষ ষোল থেকে বিদায়কে মার্টিনেজ একেবারেই ব্যর্থতার তকমা দিতে চাননা।
এসম্পর্কে তিনি বলেন, 'আমরা মোটেই ব্যর্থ নই। আমরা ম্যাচে পরাজিত হয়েছি, কিন্তু এমন একটি দলের বিপক্ষে যারা এবারের আসরের ফেবারিট। অসাধারণ কিছু ব্যক্তিগত প্রতিভা এই টুর্ণামেন্টে প্রমান করেছি। বড় ম্যাচে জয়-পরাজয় অনেক বড় পরিসরে মাপা হয়। বড় দলগুলোর ক্ষেত্রে জয়ের জন্য চেষ্টা না করাটা ব্যর্থতা। কিন্তু আমরা শেষ মিনিট পর্যন্ত সম্ভাব্য সব কিছুই করার চেষ্টা করেছি। এটা শুধুমাত্র পর্তুগাল নয়। বিশ^কাপে খুব কম দলই আছে যারা ধারাবাহিকভাবে এতদুর পর্যন্ত আসতে পারে। সবসময় বাছাইপর্ব পেরুনো ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সত্যিই কঠিন। কিছু কিছু বিষয় বিশ^কাপের ভাগ্য গড়ে দেয়। আমাদের কাল একটি শট পোস্টে লেগেছে, যা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।'
পুরো ৯০ মিনিট ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে মাঠ রাখার বিষয় নিয়ে মার্টিনেজ বলেন, 'যখন তোমার গোলের প্রয়োজন হয় তখন রোনালদোর মত খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে, এখানে সমস্যা কোথায়। তার উপস্থিতি দলে প্রয়োজন, বক্সে সে যেকোন সময় যা কিছু করে ফেলতে পারে। তাহলে তাকে কেন বেঞ্চে নিয়ে আসবো। অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ালে হয়তো গনসালো রামোসকে মাঠে নামানো যেত, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ৯০ মিনিট না খেলানোর কোন যুক্তি নেই।'








