ঢাকা, ২ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্তভাবে লড়াইয়ে ফিরে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত করে শেষ ষোলর টিকিট কেটেছে বেলজিয়াম। ইউরি টিয়েলেমানসের অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টিতে বেলজিয়ামের জয় নিশ্চিত হয়। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন টিয়েলেমানস।
২০০২ সালে অভিষিক্ত হবার পর নক আউটে এই প্রথম জয়ের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল সেনেগাল। সিটলে হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সারের গোলে আফ্রিকান দেশটি ৫১ মিনিটে ২-০ গোলের লিড নেয়। এই লিড তারা ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ধরে রেখেছিল। কিন্তু তারপরই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। রোমেলু লুকাকু ও টিয়েলেমানসের শেষ পাঁচ মিনেটর দুই গোলে ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এরপর এ্যাস্টন ভিলার মিডফিল্ডার টিয়েলেমানস ১২৫ মিনিটে পেনাল্টিতে গোল করে দলকে জয় উপহার দেন।
ম্যাচ শেষে বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া নিজের দলকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছেন, 'নিজেদের উপর আস্থা থাকলে ফুটবলে যেকোন সময় যেকোন কিছুই সম্ভব।'
আগামী বুধবার শেষ ষোলতে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।
হতাশ সেনেগাল কোচ পেপে থিয়াও বলেছেন, 'আমরা বিদায় নিয়েছি, এটা অবশ্যই কষ্টের। কিন্তু আমাকে এই দলটিকে অভিনন্দন জানাতেই হবে, যারা নিজেদের সবকিছু দিয়েছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত: আমরা দুই গোলের লিড নিয়েও তা ধরে রাখতে পারিনি।'
এই ম্যাচে পরাজিত হলে নিশ্চিতভাবেই বেলজিয়ামের স্বর্ণালী প্রজন্মের জন্য বিদায়টা কষ্টের হতো। লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনা ও সম্ভবত থিবো কুর্তোয়ার এটাই শেষ বিশ্বকাপ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আরও একটি লড়াইয়ের সুযোগ তাদের সামনে এসেছে।
নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে জি-গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের ম্যাচটি থেকে কোন পরিবর্তনই কাল করেননি গার্সিয়া। কালও গার্সিয়া মূল দলে লুকাকুকে বেঞ্চে রেখে আক্রমনভাগের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আটালান্টা ফরোয়ার্ড চার্লস ডি কেটেলিয়ারকে।
অন্যদিকে ইরাকের বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয়ের ম্যাচটি থেকে থিয়াও তিনটি পরিবর্তন করে সেনেগালিজ একাদশ সাজিয়েছিলেন। ঐ ম্যাচে বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে আসা পেপে গুয়ে কাল মূল দলে ছিলেন। এছাড়া পার্থে সিজ ও এভারটন উইঙ্গার ইলিমান এনডিয়ায়ে দলে ফিরেছিলেন।
ইন-ফর্ম সারের হাত ধরে সেনেগাল শুরুতেই প্রায় এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। ২৪ মিনিটে সাদিও মানের ক্রস থেকে সারের হেড পোস্টে লেগে ফেরত আসলে ফিরতি বল জালে পাঠান দিয়ারা। প্রথমার্ধে বেলজিয়ামের সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ম্যাক্সিম ডি কুইপার। তার কার্লিং শট দারুনভাবে রুখে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক মোরি ডিয়াও। সেনেগালের এক নম্বর গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি হাঁটুর ইনজুরির কারনে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে দলের বাইরে রয়েছেন।
বিরতির পর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা লুকাকুকে মাঠে নামান গার্সিয়া। ইতোমধ্যেই গ্রুপ পর্বে মিশর ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে এসে নিজের প্রয়োজনীয়তা প্রমান করেছেন লুকাকু। কিন্তু ছয় মিনিটের মধ্যে মৌসা নিয়াখাতের লম্বা পাস থেকে সারের দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান দ্বিগুন হলে অনেকটাই অস্বস্তিতে পড়ে বেলজিয়ান শিবির।
৮৬ মিনিটে শেষ পর্যন্ত লুকাকু দলকে লড়াইয়ে ফেরান। থমাস মুনিয়ারের ক্রস থেকে তিনি বল জালে জড়ালে বেলজিয়াম হাফ ছেড়ে বাঁচে। তিন মিনিট পর লিনড্রো ট্রোসার্ডের বাড়ানো বলে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে টিয়েলেমানস বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান। আর এতেই ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
৯০ মিনিট পর দুই দলের মধ্যে তেমন একটা আক্রমনের ধার দেখা যায়নি। বেলজিয়ামের বদলী খেলোয়াড় ডোডি লুকেবাকিওর শট ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। ম্যাচটি যখন নিশ্চিত টাইব্রেকারের দিকে যাচ্ছিল ঠিক তখনই টিয়েলেমানস ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। লামিন কামারার বিপক্ষে আদায় করা পেনাল্টি থেকে টিয়েলামানস নিজেই দলকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেন। স্পট কিক থেকে তিনি শেষ পর্যন্ত কোন ভুল করেননি।








