ঢাকা, ১ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে মুখ ঢেকে কথা বলা নিষিদ্ধ করে ফিফা এবারের বিশ্বকাপে নতুন এক আইন চালু করেছে। সেই আইনের আওতায় দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে গতকাল লাল কার্ড দেখেছেন ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকেপি।
মঙ্গলবার আজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ইকুয়েডর ২-০ গোলে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছে। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড সান্তি জিমেনেসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর পর হিসকেপিকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে চালু করা এই নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো মাঠে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং খেলোয়াড়দের অশোভন আচরণ নিরুৎসাহিত করা।
আইন অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের সময় কোনো খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে কথা বললে তাকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। কারণ এভাবে মুখ ঢেকে কথা বললে ম্যাচ কর্মকর্তাদের ও টেলিভিশন ক্যামেরার কাছ থেকে আপত্তিকর বা অপমানজনক ভাষা আড়াল করা সম্ভব হয়।
নতুন এই আইনে প্রথম লাল কার্ড দেখেছিলেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরন। ২০ জুন লেভাইস স্টেডিয়ামে তুরস্কের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে প্যারাগুয়ে ১-০ গোলে জয়ী হয়েছিল। কিন্তু আইন ভঙ্গের কারনে মাঠ ছাড়েন আলমিরন।
ফিফা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে শৃঙ্খলার মান আরও জোরদার করা এবং খেলোয়াড়দের সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
টুর্নামেন্ট কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, মৌখিক অপব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং খেলোয়াড়দের আচরণের জন্য আরও বেশি জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য।
মেক্সিকোর কাছে হেরে ইকুয়েডরের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেলেও, ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী হিনকেপির এই নিষেধাজ্ঞা ইকুয়েডরের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক ম্যাচেও বহাল থাকবে।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, চলমান বিশ্বকাপ এবং ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতেও নতুন আচরণবিধি কঠোর ও ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগে ফিফা বদ্ধপরিকর।








