ঢাকা, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : ওল্ড ট্রাফোর্ডে রোমার বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এই জয়ে চাপে থাকা কোচ মাইকেল ক্যারিকও আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।
ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই মাতিয়াস সুলে ও ডনি ম্যালেনের গোলে রোমা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলে স্বাগতিক সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে।
ব্রুনো ফার্নান্দেসের পেনাল্টি থেকে গোলের পর মাতেউস কুনহার জোড়া গোলে জয় নিশ্চিত হয় ইউনাইটেড। এর মধ্য দিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচ জয়হীন থাকার ধারারও অবসান ঘটে দলটির।
ক্যারিক বলেন, “এই মাঠ অবিশ্বাস্য সব ঘটনা ঘটায়, জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি করে। বিরতির সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে কিছুটা কথা বলেছিলাম, এই মাঠ কীভাবে পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। কখনও কখনও একটি মুহূর্তই যথেষ্ট। আজ ঠিক সেটাই হয়েছে। ছেলেরা প্রতিটি ছোট সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে। শেষ পর্যন্ত দারুণ জয় উপহার পেয়েছি।”
ইউনাইটেডের নিষ্প্রাণ প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছিল, ক্যারিককে আরও কিছু সময় দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্তটি উল্টো ফল দিয়েছে।
তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডে আগের চারবারের হারের স্মৃতি ভুলতে পারেনি রোমা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরেকটি নাটকীয়ভাবে ম্যাচ হাতছাড়া করে তারা।
গত মাসেও জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনির দল রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ আট মিনিটে তিন গোল হজম করে ৪-৩ ব্যবধানে হেরেছিল।
গাসপেরিনি বলেন, “একটি ম্যাচ ৯০ মিনিটের। দ্বিতীয়ার্ধে তারা নিজেদের খেলার গতি বাড়িয়েছে। তবে স্কোরলাইন ধরে রাখতে আমাদের আরও কিছু করা উচিত ছিল।”
শনিবার চেলসির কাছে ২-০ গোলে হারের ম্যাচে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের অপ্রয়োজনীয় লাল কার্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারকে একাদশ থেকে বাদ দেন ক্যারিক। তবে তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই অগোছালো রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে দেয় রোমা।
১১ মিনিটে রদ্রিগো মোরার পাস পেয়ে প্রচুর জায়গা পান সুলে। এরপর সেন্নে ল্যামেন্সকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি।
কিছুক্ষণ পর আবারও ইউনাইটেডের বাঁ দিকের রক্ষণভাগ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। সুলের শট আয়ডেন হেভেনের বাড়ানো হাতে লাগলে পেনাল্টি পায় রোমা। স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যালেন।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝিতে সমর্থকদের মাঠে টেনিস বল ছুড়ে মারার কারণে সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ থাকে। এ সময় ইউনাইটেডের মার্কিন মালিক গ্লেজার পরিবারকে ক্লাব বিক্রি করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেন সমর্থকরা।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর সাথে সাথেই আরও একটি ধাক্কা খায় ইউনাইটেড। ৭ কোটি পাউন্ডে দলে নেওয়া কার্লোস বালেবা রোমার বক্সে ঢোকার সময় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ৬০ মিনিটের কিছু আগে ভাগ্য সহায় হয় ক্যারিকের দলের। জিয়ানলুকা মানচিনির বিপক্ষে কুনহা পেনাল্টি আদায় করে নেন।
ফার্নান্দেসের প্রথম পেনাল্টি রোমার তৃতীয় পছন্দের গোলরক্ষক ডেভিস ভাসকেজ ঠেকিয়ে দেন। তবে রোমার খেলোয়াড়দের আগেভাগে বক্সে ঢুকে পড়ার কারণে পেনাল্টি আবার নেওয়ার সুযোগ পায় ইউনাইটেড। দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি অধিনায়ক ফার্নান্দেস। জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সূচনা করেন তিনি।
এর কয়েক সেকেন্ড পর কুনহার পাস পেয়ে ব্রায়ান এমবেউমোর শট দুই পোস্টের ভেতরের অংশে লেগে ফিরে আসে।
খেলা শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে রোমা নিজেই ইউনাইটেডকে সমতায় ফেরার সুযোগ করে দেয়। লিওনার্দো বালেরদির ফাঁকা জায়গায় পা চালানোর ব্যর্থতার সুযোগে সহজেই বল জালে ঠেলে দেন কুনহা।
এর তিন মিনিট পর ভাসকেজকে পরাস্ত করে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এরপর গ্যালারিতে সমর্থকদের সঙ্গে উদ্যাপন করতে ছুটে যান তিনি। তবে সেই উদ্যাপনের জন্য চড়া মূল্য দিতে হয় তাঁকে। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন কুনহা। এরপর যোগ করা সময়ে বিপজ্জনকভাবে প্রতিপক্ষের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন।
তবে ১০ জনের দল নিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখে ইউনাইটেড। এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও কোমোর কাছে টানা দুই হারের পর এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে দলটি।
এই জয় ক্যারিকের জন্য মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হবে, নাকি সাময়িক স্বস্তি- তা সময়ই বলে দেবে।





