ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ : ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ার পর নানা মহল থেকে সমালোচনা ও পদত্যাগের দাবি উঠলেও আত্মবিশ্বাসী ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সদস্য সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পাওয়ার দাবি করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের অংশীদারীত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর তিন মাস আগে তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। তবে এখন বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ইনফান্তিনো।
বিশেষ করে সম্প্রতি এশিয়ান ফুটবলের সমর্থন পাওয়ার পর চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
পদত্যাগের কথা ভেবেছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইনফান্তিনো বলেন, “বিশ্বের ২১১টি সদস্য সংস্থা আমাকে নির্বাচিত করেছে। আমার মনে হয়, ফিফার মতো একটি সংগঠনে ভিন্ন ভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই পারে, এটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু আমরা যদি গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে সত্যিই আন্তরিক হই, যদি বিশ্বাস করি যে বিশ্বের সব জায়গায় প্রত্যেকের ভোট ও মতামতের সমান মূল্য রয়েছে এবং ফুটবল সবার, তাহলে আমাদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকেও সম্মান জানাতে হবে।”
ইনফান্তিনো বলেন, “আমি মাত্রই টোকিও সফর শেষে ফিরেছি, যেখানে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন আমাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। আমি কেপ ভার্দেও গিয়েছিলাম, যেখানে আফ্রিকার সব দেশ আমাকে সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্বের সর্বত্র সদস্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে আমি কথা বলছি।”
এর আগে এএফএফই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছিল এএফসি। উয়েফা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল।
তবে কনকাকাফের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং এএফসির অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ইউরোপ ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ফিফা সভাপতির পদে ইনফান্তিনোর বিকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী না থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
২০৩১ সাল পর্যন্ত চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতি হওয়ার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে চান ইনফান্তিনো। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ নভেম্বর।
গত সপ্তাহে জুরিখে ফিফা কাউন্সিলের সভায় ক্ষমা চেয়েছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে তাঁর সেই ক্ষমা
চাওয়ার পরও জার্মানি ও ইংল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর অসন্তোষ দুর হয়নি।
তবে ৫৬ বছর বয়সী সুইস-ইতালীয় এই ফুটবল প্রশাসক বলেন, “মতভিন্নতা থাকতেই পারে, এতে সমস্যা নেই। কিন্তু এরপর আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। সব মতকে একই ছাদের নিচে নিয়ে আসা সব সময় সহজ নয়। তবে আমাদের সবার মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করতে হবে, আর আমি প্রত্যেকের মতামতকে সম্মান করি।”
তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত ফিফার সদস্য সংস্থাগুলোকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কাকে সভাপতি হিসেবে চায় এবং কীভাবে ফিফা পরিচালিত হোক, তা তারা নির্ধারণ করবে।”





