ঢাকা, ২১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ৪৮ দলের সম্প্রসারিত এবারের আসরে বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড গড়েছে। একই সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, টেলিভিশনে দর্শকসংখ্যাও আগের সব রেকর্ডকে "অনেক, অনেক গুণ" ছাড়িয়ে গেছে।
এ সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান স্বীকার করেন, নতুন রেকর্ড গড়ার পেছনে বড় কারণ হলো, "এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। এতে অতিরিক্ত ১৬টি দল অংশ নিয়েছে।"
তবে তিনি যোগ করেন, "তারপরও এই আসর আমাদের সব প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।"
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা তাদের প্রত্যাশার আগাম বার্তা দিয়ে গিয়ে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালে তাদের মোট আয় ৭০০ কোটি ইউরো অতিক্রম করবে, যা হবে নতুন রেকর্ড। এটি ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বকাপের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি।
শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং রোববারের ফাইনালের আগেই ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর স্টেডিয়ামগুলোতে ৬৬ লাখেরও বেশি দর্শক খেলা উপভোগ করেছেন।
সোমবার স্পেন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যম হিসাব করে জানায়, ১০৪টি ম্যাচে মোট দর্শকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ ১০ হাজার। যদিও এ বিষয়ে তখনও ফিফা আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
রাউন্ড অব ৩২-এ ফ্রান্স ও সুইডেনের ম্যাচ চলাকালেই ৫০ লাখ দর্শকের মাইলফলক অতিক্রম হয়। এর আগে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড ছিল ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে, যেখানে মোট ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৮টি টিকিট বিক্রি হয়েছিল।
এবার উচ্চ টিকিটমূল্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও স্টেডিয়ামগুলোর গড় আসন পূরণের হার ছিল রেকর্ড ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতি ম্যাচে গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল ৬৫ হাজার ৩৫১ জন।
ফিফা জানায়, আয়োজক দেশগুলোতে এবং বিশ্বজুড়ে টেলিভিশন দর্শকের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে।
যদিও এখনো বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি, তবে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, প্রায় ৬০০ কোটি মানুষ বিশ্বকাপ দেখেছেন।
এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এর আগে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ফ্রান্সকে হারানোর ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বাধিক দর্শকপ্রিয় ম্যাচ। সেটি দেখেছিলেন প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ, যা ২০১৮ সালের ফাইনালের ১১২ কোটি দর্শকের রেকর্ড ভেঙেছিল।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ধারণা করা হয়েছিল, টেলিভিশন সম্প্রচারস্বত্ব থেকে আয় ৩৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে এবং স্পনসরশিপ আয় বাড়বে ২১ শতাংশ।
ফিফা আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটেও বিশ্বকাপ ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, "রাউন্ড অব ১৬ শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বের প্রায় ৫২০ কোটি মানুষ- যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ- অন্তত একবার হলেও এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।"
বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ফিফা যে ৩৭০ কোটি ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছিল, তার এক-চতুর্থাংশ বরাদ্দ রাখা হয় অংশগ্রহণকারী জাতীয় দল এবং খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেওয়া ক্লাবগুলোর জন্য। এছাড়া এপ্রিলের শেষ দিকে বিশ্বকাপের মোট পুরস্কার তহবিল ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৭ কোটি ১০ লাখ ডলার করা হয় যা কাতার বিশ্বকাপের ৪৪ কোটি ডলারের তুলনায় অনেক বেশি।








