ঢাকা, ৪ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : অস্ট্রেলিয়াকে পেনাল্টি শুট আউটে ৪-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোল নিশ্চিত করেছে মিশর।
টেক্সাসের নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র থাকার পর ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। শেষ ৩০ মিনিটে মিশর অস্ট্রেলিয়ার ওপর চেপে বসলেও একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে এগিয়ে যেতে পারেনি। যে কারণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য পেনাল্টি শুট আউটের প্রয়োজন হয়।
এই প্রথমবারের মত মিশর বিশ্বকাপের শেষ ষোল রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো।
অস্ট্রেলিয়ান কোচ টনি পোপোভিচ অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাথু রায়ানকে বদলী বেঞ্চ থেকে মাঠে পাঠান। সকারুজদের প্রথম শটেই ডিফেন্ডার হ্যারি শুটার নিজের সুযোগ নষ্ট করেন। তার শটটি বারের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। প্রথম মিসেই কার্যত অস্ট্রেলিয়া পিছিয়ে পড়ে। এরপর দুই দলের পাঁচ খেলোয়াড় তাদের শটগুলো গোলে পরিণত করেন। এর মধ্যে মোহাম্মদ সালাহও ছিলেন। কিন্তু নিজেদের চতুর্থ শটে ১৮ বছর বয়সী লুকাস হেরিংটন বারে লাগালে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয় সময়ের ব্যপার হয়ে দাঁড়ায়। মিশরের হয়ে হোসাম আবদেলমাগুইড ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে মিশরকে জয় উপহার দেন।
এর আগে ডালাসের কাউবয়েজ স্টেডিয়ামে করিম হাফেজের ক্রসে ১৩ মিনিটে সাতবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মিশরকে এগিয়ে দেন ইমাম আশুর। এবারের আসরে এটি আশুরের দ্বিতীয় গোল। গ্রুপ পর্বে মাত্র দুই গোল করা অস্ট্রেলিয়া এক গোলে পিছিয়ে থেকে অনেকটাই ছন্দ হারিয়ে ফেলে। মিশরের শেষ গ্রুপ ম্যাচে ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সালাহকে অনেকটাই নিষ্প্রভ মনে হয়েছে।
বিরতির ১০ মিনিট আগে সকারুজরা প্রথম টার্গেটে একটি শট নেয়। ফুল-ব্যাক আজিজ বেহিচের শট কোনমতে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মোস্তফা শুবির। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে ফেরা সালাহ ৪৫ মিনিটে একটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি।
বিরতির পরপরই ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো। ম্যানচেস্টার সিটি এ্যাটাকার ওমর মামুশের বল অল্পের জন্য জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। ১০ মিনিটের মধ্যে সকারুজদের ফ্রি-কিক থেকে মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতি গোলে সমতায় ফিরে অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামেন্টে এটি হানির দ্বিতীয় আত্মঘাতি গোল।
দুই দলের কেউই এর আগে বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে জিততে পারেনি। যে কারণে উভয় দলের সামনে ছিল রেকর্ডের হাতছানি। তারই ধারাবাহিকতায় খুব একটা আক্রমণাত্মক খেলা কেউই খেলেনি। সাবধানে খেলতে গিয়ে অনেক সময়ই ম্যাচে ছন্দপতন ঘটেছে। এর মধ্যে মিশর মাঝে মাঝে কিছু আক্রমণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি।








