ঢাকা, ৩১ মে, ২০২৬ (বাসস) : ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টাচেল বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে কোনো রাখঢাক করেন না। তার দল গ্রুপ 'এল' থেকে সহজেই পরের পর্বে ওঠার অন্যতম ফেবারিট, যদিও সেখানে তাদের পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রোয়েশিয়া রয়েছে।
১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী দল। গ্রুপ পর্বে তাদেও অপর প্রতিপক্ষ পানামা ও ঘানা।
সাবেক পিএসজি ও চেলসির টাচেলকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিয়োগ দেওয়া হয়। গ্যারেথ সাউথগেটের আমলে একের পর এক অল্পের জন্য হাতছাড়া হওয়া বড় টুর্নামেন্টের সাফল্য এনে দেবার লক্ষ্যেই টাচেলের উপর আস্থা রেখেছে ইংল্যান্ড।
জার্মান এই কোচ এবারের বিশ^কাপে মূলত সেই খেলোয়াড়দের ওপরই আস্থা রেখেছেন, যারা বাছাইপর্বে ইংল্যান্ডকে দুর্দান্ত সাফল্য এনে দিয়েছে। বাছাইপর্বে দলটি আট ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়েছে এবং একটিও গোল হজম করেনি।
তবে টাচেল নিজের দৃঢ় অবস্থানেরও প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি ফিল ফোডেন ও কোল পালমারদের মতো তারকাদের বাদ দিয়ে বলেছেন, ২৬ সদস্যের দলে তিনি একটি "ভ্রাতৃত্ববোধসম্পন্ন" পরিবেশ গড়ে তুলতে চান। ইংল্যান্ডের দলে এমন বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছেন, যারা যে কোনো জাতীয় দলের একাদশে জায়গা পেতেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা ও ডিক্লান রাইস।
তবে দলের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। রক্ষণভাগে টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা কেনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তার মধ্যে অন্যতম।
সাউথগেটের অধীনে ইংল্যান্ড দীর্ঘদিনের শিরোপাখরা কাটানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। দুইবার উয়েফা ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে উঠে রানার্স-আপ শিরোপা নিয়ে তাদেও সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
২০১৮ সালের বিশ^কাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। চার বছর পরে কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হয়।
গ্রুপ 'এল'-এ ইংল্যান্ডের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার কথা ক্রোয়েশিয়ার। দুই দল ১৭ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনে গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে।
চার মিলিয়নেরও কম জনসংখ্যার দেশ ক্রোয়েশিয়া। তাদের জাতীয় দল ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল করে আসছে। বর্তমানে তারা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১১ নম্বরে রয়েছে। ১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। ২০১৮ সালে রানার্স-আপ হয় এবং ২০২২ সালে আবারও তৃতীয় স্থান লাভ করে।
কোচ জøাটকো ডালিচের দল ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে অপরাজিত ছিল। তারা সাতটি ম্যাচ জিতেছে এবং একটি ড্র করেছে। তাই ইংল্যান্ডের সঙ্গে তাদেরও নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল।
২০১৮ বিশ্বকাপের পর দুই দল তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে দুইবার এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
৪০ বছর বয়সেও অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারলুকা মদ্রিচ ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক ও সবচেয়ে বড় ভরসা। তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচের মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।
২০১৮ সালের ব্যালন ডি'অর বিজয়ী মদ্রিচ বর্তমানে এসি মিলানের হয়ে খেলেন। এপ্রিলের শেষ দিকে তার গালের হাড়ে চোট লাগে, তবে বিশ্বকাপের আগে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে।
আরেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ৩৭ বছর বয়সী উইঙ্গার ইভান পেরিসিচও দলে রয়েছেন। এছাড়া আছেন ম্যানচেস্টার সিটির দুই তারকা জাসকো গাভারডিওল ও মাতেও কোভাচিচ।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৭৪তম স্থানে থাকা ঘানা ২০১০ সালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছিল। তবে ২০১৪ ও ২০২২ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
'ব্ল্যাক স্টারস'-এর কোচ অভিজ্ঞ কার্লোস কুয়েরো আগে পর্তুগাল ও ইরানের জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের আক্রমণভাগে আছেন এন্টোনিও সিমেনিও। তবে ইনজুরির কারণে মোহাম্মদ কুদুস বিশ্বকাপ দলে নেই। অন্যদিকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৩৩তম স্থানে থাকা পানামা এখন পর্যন্ত একবারই বিশ্বকাপে খেলেছে। ২০১৮ সালে তারা তিনটি ম্যাচই হেরেছিল, যার মধ্যে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজয়ও ছিল।
বাছাইপর্বে ফরোয়ার্ড হোসে ফায়ারডো এবং উইঙ্গার হোসে রুইস রড্রিগুয়েজ ছিলেন দলের যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা। এছাড়া স্ট্রাইকার সেসিলিও ওয়াটারম্যানও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।








