ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ভালো অবস্থানে থেকেও বড় সংগ্রহ গড়তে না পারার জন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম। তাঁর মতে, প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের আরও অনেক বেশি রান করা উচিত ছিল।
আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলার শুরুতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২১৩ রান। এরপর মাত্র ৫৯ রানের মধ্যে বাকি সাত উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এতে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলার বড় সুযোগ হাতছাড়া করে স্বাগতিকরা।
প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সাদমান বলেন, দ্বিতীয় দিনের সকালে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানো দলের জন্য বড় ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে লিটন দাসের সঙ্গে তাঁর গড়ে ওঠা সম্ভাবনাময় জুটির পর আরও কিছুক্ষণ উইকেটে থাকতে পারলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
দিনের খেলা শেষে সাংবাদিকদের সাদমান বলেন, “আমি যদি আরেকটু বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারতাম কিংবা ইনিংসটা আরও বড় করতে পারতাম, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি অন্য রকম হতো। সম্ভবত সেখানেই আমরা ভুল করেছি।”
বাংলাদেশের টপ অর্ডারের ব্যাটারদের শুরুটা বড় ইনিংসে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন এই ওপেনার। তাঁর মতে, ব্যক্তিগতভাবে বড় ইনিংস খেলতে পারলে দলের সংগ্রহ ৪৫০ কিংবা ৫০০ রানেও পৌঁছাতে পারত।
তিনি বলেন, “আমাদের আরও ভালো করা উচিত ছিল। টপ অর্ডারের ব্যাটাররা যদি ১৫০, ১৭০ কিংবা ২০০ রান করতে পারতেন, তাহলে হয়তো দলের সংগ্রহ ৪৫০ কিংবা ৫০০ রানে পৌঁছাত।”
তবে ব্যাটিং ধ্বসের জন্য মিরপুরের উইকেটকে দায়ী করেননি সাদমান। তাঁর মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য। পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাটাররাও ভুল করেছেন।
সাদমান জানান, উইকেট কিংবা কন্ডিশন নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে প্রতিটি বলের মেধা অনুযায়ী খেলার পরিকল্পনাই অনুসরণ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “বল এলে আমি সেটি খেলার চেষ্টা করি। সব সময় এটাই আমার পরিকল্পনা।”
মিরপুরে দিনের শুরুতে এবং শেষ দিকে ব্যাটারদের প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে ভালো শুরু করেও ইনিংসকে তিন অঙ্কে নিতে না পারার পর সাদমানের এই সেঞ্চুরি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নিজের ইনিংস বড় করতে না পারার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে জানান তিনি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফিটনেস ও ব্যাটিং কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন সাদমান। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাবেক ব্যাটার মোহাম্মদ আশরাফুল ও কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের পরামর্শও নিয়েছেন তিনি।
সাদমান বলেন, “একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছানোর পর কেন আউট হয়ে যাচ্ছি, তা নিয়ে সব সময় ভাবতাম। সম্প্রতি এ নিয়ে অনেক কাজ করেছি।”
বাংলাদেশকে অল্প রানে অলআউট করার পর সাবলীল শুরু করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান
মিরাজ দ্রুত তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেন। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনো কোনও দলের হাতেই পুরোপুরি নেই।
তাইজুল ও মিরাজের বোলিংয়ের প্রশংসা করে সাদমান বলেন, তাঁরা ধারাবাহিকভাবে সঠিক জায়গায় বল ফেলেছেন, “তাঁরা সত্যিই ভালো বোলিং করেছেন। তাঁদের বোলিংয়েই আমরা আবার ম্যাচে ফিরতে পেরেছি।”
আগামীকাল সকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাকি ব্যাটারদের দ্রুত আউট করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য বলে জানান সাদমান। সফরকারীদের লিড যতটা সম্ভব সীমিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।







