ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হেরে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। চার দিনেই টেস্ট হেরে হতাশ বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার মতে, ব্যাটিং-বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগেই বাজে পারফরমেন্সের করেছে দল। তিনি বলেন, এটি হতাশাজনক পারফরমেন্স। এটি দলের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফেভারিটের তকমা নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ঘরের কন্ডিশন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পারফরমেন্স বাংলাদেশকে এগিয়ে রেখেছিল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্দান্ত পারফরমেন্সের সামনে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি টাইগাররা।
প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের প্রস্তুতি ও সবার উদ্দেশ্য ভালোই ছিল। খেলোয়াড়রা দলের জন্য ভালো কিছু করতে চেয়েছিলো, কিন্তু দিন খারাপ ছিল। এমনটা মাঝে মধ্যে হতেই পারে।
টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট ২২১ রান থেকে ২৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। তারপরও বোলারদের হাত ধরে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে আটকে দিয়ে ২৭ রানের লিড পায় টাইগাররা।
কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। ৫৩ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা। এরপর নাঈম হাসানের লড়াকু হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৪২ রান করে স্বাগতিকরা। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭০ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু এই ইনিংসে বল হাতে জ্বলে উঠতে পারেনি টাইগার বোলাররা। মাত্র ২ উইকেট শিকার করেছে। সেই সুযোগে সহজেই ম্যাচ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তাই ম্যাচ হারের জন্য তিন বিভাগে ভালো পারফরমেন্স করতে না পারাকে দুষলেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় হতাশাজনক পারফরমেন্স ছিল। ব্যাটিং-বোলিং ও ফিল্ডিং, তিন বিভাগেই আমরা সেরা পারফরমেন্স করতে পারিনি। স্বাভাবিকভাবেই, এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শুরুটা খুব খারাপ ছিল এবং আমরা অনেকগুলো সহজ উইকেট বিলিয়ে দিয়েছি। ভবিষ্যতে এই দিকগুলো নিয়ে ভাবতে হবে এবং দেখতে হবে, এই ধরনের কন্ডিশনে আমরা কিভাবে আরও ভালো করতে পারি। যখন বোর্ডে যথেষ্ট রান থাকে না, তখন সব সুযোগই কাজে লাগাতে হয়। ফিল্ডিংয়ে বাড়তি প্রচেষ্টা দেখাতে হয় এবং অবিশ্বাস্য কিছু ক্যাচ নিতে হয়। এসবই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজন পড়ে। দুর্ভাগ্যবশত, আজ আমরা তেমন কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি।’
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। ১১টি চারে ২৩৪ বলে ১০৫ রান করেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। ম্যাচ শেষে সাদমানের প্রশংসা করেছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘সাদমান যেভাবে ব্যাটিং করেছে সেটি সত্যিই দারুণ ছিল। বিশেষ করে তার ফর্মে ফিরে আসাটা খুব ইতিবাচক। তবে আমরা মিডল অর্ডারে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি। প্রথম ইনিংসে উইকেট বেশ ভালো ছিল, সেই পর্যায়ে আমাদের স্কোরে আরও কিছু রান যোগ করা উচিত ছিল।’
প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সেরা পারফরমার অফ-স্পিনার নাঈম হাসান। প্রথম ইনিংসে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ২৪৫ রানেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ তিন উইকেট নেন নাইম।
এছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে ৫২ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন নাঈম। তার ইনিংসের সুবাদেই ১৪২ রানের পুঁজি নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭০ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ।
নাঈমের পারফরমেন্স নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘নাঈম দারুণ বল করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে এসে যেভাবে বোলিং করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। মেহেদি, শরিফুল, হাসান এবং তাইজুলও খুব ভালো বোলিং করেছে।’
সিরিজ হার এড়াতে দ্বিতীয় টেস্টে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের। পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই দ্বিতীয় টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমার বিশ্বাস, ছেলেরা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।’







