ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬: কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে রোববার ক্যাম্প ন্যুতে লা লিগায় মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে হোসে মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ে লিগের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান তিনে নামিয়ে এনেছে রিয়াল।
বিরতির আগে ফরাসি সুপারস্টার এমবাপ্পে প্রথম গোল করেন। পরে ম্যাচের শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বার্সেলোনাকে চলতি মৌসুমে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় প্রথম হারের স্বাদ দেন তিনি। এর আগে চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার হয়ে সমতা ফিরিয়েছিলেন রাফিনিয়া।
অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনার পেছনে থেকে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। মৌসুমের প্রথম নয়টি ম্যাচেই জিতেছিল কাতালানরা, তবে কঠিন একটি সপ্তাহ পার করতে হচ্ছে তাদের।
মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির কাছে হারের পর এটি বার্সেলোনার টানা দ্বিতীয় পরাজয়।
রিয়ালের দায়িত্বে ফিরে প্রথম এল ক্লাসিকোয় দলের পারফরম্যান্সে দারুণ সন্তুষ্ট মরিনিও।
ম্যাচ শেষে রিয়াল বস বলেন, “আমার দল অসাধারণ খেলেছে। আমরা ছিলাম সুসংগঠিত, মনোযোগী এবং সাহসী। প্রতিপক্ষ যখন প্রচন্ড চাপ দেয়, তখন নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে বল বের করে খেলতে যে সাহস প্রয়োজন, আমাদের তা ছিল।”
“দ্বিতীয় গোল করার সুযোগ আমাদের ছিল। অবশ্যই বার্সেলোনা জোরালোভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা শান্ত ও সুসংগঠিত ছিলাম। ১-১ সমতায় ফেরার পরও আমরা ধৈর্য হারাইনি।”
ফ্লিক দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের সাতটি এল ক্লাসিকোর ছয়টিতেই জিতেছিল বার্সেলোনা। তবে মরিনিরও দলের বিপক্ষে প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিল তারা।
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ফ্লিক বলেন, “আজ আপনারা দেখেছেন, আমাদের মধ্যে সতেজতার অভাব ছিল। লা লিগায় এটাই আমাদের প্রথম হার। এর আগে টানা নয়টি ম্যাচ জিতেছিলাম। এখন বিষয়টি আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে।”
“পরাজয় খেলারই অংশ। আমাদের উন্নতি করতে হবে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘুরে দাঁড়ানো।”
নিষেধাজ্ঞার কারণে উইঙ্গার ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে ছাড়াই খেলতে নামা রিয়াল সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পঞ্চম জয় পেয়েছে। অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ মরিনিওর অধীনে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে দলটি।
টানা দুই মৌসুম কোনো শিরোপা না জেতার পর বার্সেলোনার আধিপত্য থামাতে মরিনিওর ওপর আবার আস্থা রেখেছে রিয়াল। এই জয় তাদের সঠিক পথে এগোনোর বিষয়ে আশাবাদী করবে।
ম্যাচের শুরুতে দুই দলই সতর্ক ছিল, ফলে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছে কম।
বার্সেলোনার ডিফেন্ডার পাও কুবারসি দুবার এমবাপ্পেকে থামান। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের মার্ক কুকুরেয়া ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিন ইয়ামালের বারবার রুখে দিয়ে শুরু থেকেই তাঁকে বিরক্ত করতে থাকেন।
নিউক্যাসল থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর প্রথম এল ক্লাসিকোয় খেলতে নামা অ্যান্থনি গর্ডন ব্যাকহিলে বল বাড়িয়ে দেন রাফিনিয়াকে। তাঁর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সুযোগ তৈরি করেও গোল পায়নি বার্সেলোনা।
এরপর তরুণ ডিফেন্ডার জাভি এসপার্ট চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। আধঘণ্টা খেলা হওয়ার আগেই তাঁর জায়গায় আলেহান্দ্রো বালদেকে নামাতে হয় স্বাগতিকদের।
ফ্লুতে আক্রান্ত অভিজ্ঞ থিবো কোর্তোয়া দল থেকে ছিটকে যাওয়ায় রিয়ালের গোলপোস্ট সামলান আন্দ্রি লুনিন। গর্ডনের একটি শট ঠেকানোর পরই এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
৪১ মিনিটে মৌসুমে লা লিগায় নিজের দশম গোলটি করেন এমবাপ্পে। বার্সেলোনার জেরার্ড মার্তিনের ক্লিয়ার করা বল সরাসরি এমবাপ্পের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। ফরাসি ফরোয়ার্ডের জন্য এটি ছিল মৌসুমের সবচেয়ে সহজ গোলগুলোর একটি।
সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ তৈরি করে বার্সেলোনা। কিন্তু এবার গোলের সামনে ভুল করেন তরুণ তারকা ইয়ামাল। সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এরপর ম্যাচে গতি বাড়ে। বিরতির আগে ইয়ান দিয়োমান্দে রিয়ালের ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর জোরালো শট জালের পাশ দিয়ে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জেরার্ড মার্তিন নিজের ভুল কিছুটা শুধরে নেন। জুড বেলিংহামকে আটকে দেন তিনি। ফলে বেলিংহাম ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে যেতে কিংবা ফাঁকা জায়গায় থাকা এমবাপ্পের কাছে বল পৌঁছাতে পারেননি।
প্রথমার্ধে অনেকটাই নিষ্প্রভ থাকা রাফিনিয়া ঘণ্টাখানেকের পরেই বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান। পেদ্রি বল বাড়িয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে। চলতি লা লিগায় ১৩ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা রাফিনিয়া বেলিংহামের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে শট নেন। লুনিন বলটি ঠেকাতে পারেননি।
এরপর কর্নার থেকে মার্তিনের শট দুর্দান্তভাবে ঠেকান ইউক্রেনীয় গোলরক্ষক লুনিন। ম্যাচে তখন আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দিয়েছিল বার্সেলোনা।
ইয়ামালের বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে বার্সেলোনার বদলি খেলোয়াড় ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের শটও মরিয়া হয়ে আটকে দেন ডিন হুইসেন।
তবে শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনার জন্য অপেক্ষা করছিল বড় ধাক্কা। বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল জেসুস বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে রিয়াল। এডুয়ার্দো কামাভিঙ্গা কুবারসিকে কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পের দিকে। গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসায় বার্সেলোনার গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়া তখন নিজের অবস্থানে ছিলেন না। ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে ৮৭ মিনিটে রাতের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে।
২০২৪ সালে পিএসজি থেকে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১০০। তবে সেই গোলের সঙ্গে মিলিয়ে শিরোপা এখনো জিততে পারেননি তিনি।
ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদ টিভিকে এমবাপ্পে বলেন, “আজকের জয় একটি ভালো বার্তা। তবে এটা ভাবার কোন কারন নেই যে মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। আগামী সপ্তাহে রেসিং সান্টান্দারের বিপক্ষেও আমাদের একই গতি নিয়ে খেলতে হবে।”





