ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৬ (বাসস) : বিশ্বকাপ ও ফিফার অন্যান্য বড় প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার পরিত্যক্ত পরিকল্পনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের কারণে ফিফা সভাপতি হিসেবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নি:সন্দেহে দুর্বল হয়েছে।
ঘোষণার মাত্র চার দিন পর ফিফা প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নিলেও ইনফান্তিনোর সমালোচনা এবং তার পদত্যাগের দাবি বেড়েই চলেছে।
৫৬ বছর বয়সী সুইস আইনজীবী ইনফান্তিনো ২০৩১ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন, এমন চতুর্থ ও শেষ মেয়াদে তার নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিতই মনে হচ্ছিল। আগামী মার্চে রাবাতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী না থাকার কথা ছিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর।
এখন প্রশ্ন হলো, বিরোধীরা কি একজন প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে?
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জার বা উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি যে নামটি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন কনকাকাফের সভাপতি ভিক্টর মন্তাগ্লিয়ানি। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রণ করে কনকাকাফ।
আরও দৃঢ় অবস্থানে থাকা বিরোধীরা এর আগেই পদক্ষেপ নিতে পারে এবং ফিফা কাউন্সিলের জরুরী সভা আহ্বানের দাবি জানাতে পারে।
এর জন্য ফিফা কাউন্সিলের ৩৭ সদস্যের মধ্যে ১৯ জনের সমর্থন প্রয়োজন। এমন সমর্থন পাওয়া গেলে দুই সপ্তাহের মধ্যে সভা আয়োজন করতে হবে।
সার্বিক বিবেচনায় বিরোধীদের এমন সভা আয়োজনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কারণ ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করা তিনটি কনফেডারেশনের হাতে কাউন্সিলের ২১টি আসন রয়েছে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার রয়েছে ৯ সদস্য, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-এর ৭ এবং কনকাকাফের ৫টি আসন।
আরও কঠোর একটি বিকল্পও রয়েছে, তবে বর্তমান প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সেটিও কল্পনাতীত নয়। সেটা হলো ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট।
ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের ২০ শতাংশ লিখিতভাবে অনুরোধ করলে একটি বিশেষ কংগ্রেস আয়োজন করা যায়। অর্থাৎ মাত্র ৪৩টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন পেলেই এমন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব, যা উয়েফার ৫৫, কনকাকাফের ৩৫ এবং এএফসির ৪৬ সদস্যের মধ্য থেকেই সহজে জোগাড় করা সম্ভব।
এই মুহূর্তে শুধু ওয়েলস, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও সার্বিয়া প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
২০৩০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মরক্কো ইনফান্তিনোর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো অল্প কয়েকটি দেশের একটি।
যদি শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বের লড়াইয়ে গড়ায়, তাহলে ইউরোপের বাইরের প্রার্থী হিসেবে মন্তাগ্লিয়ানিকেই সবচেয়ে স্বাভাবিক চ্যালেঞ্জার মনে হচ্ছে। ১৯৯৮ সালে সেপ ব্লাটার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ফিফা সভাপতির পদটি ইউরোপীয়দের দখলেই রয়েছে।
উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন এবং নরওয়ের ফুটবল প্রধান লিসে ক্লাভেনেস উভয়ই নিজেদের প্রার্থী না হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
কানাডিয়ান মন্তাগ্লিয়ানি ২০১৬ সাল থেকে কনকাকাফের সভাপতি। তার আগে দায়িত্বে থাকা পরপর দুই সভাপতি ফিফার দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার পর তিনি এই কনফেডারেশনে প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন।
দীর্ঘদিন ধরে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত ফিফার সহ-সভাপতি মন্তাগ্লিয়ানি ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) পরিকল্পনা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন।
কনকাকাফ সর্বসম্মতভাবে প্রকল্পটি প্রত্যাখ্যান করে এবং এই সভাপতিত্বের ব্যাপারে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা দাবি করেছে।
বিমানবালা হিসেবে কাজ করার পর বীমা ব্যবসায় যুক্ত হওয়া মন্তাগ্লিয়ানিকে ভ্যাঙ্কুভারে এতটাই সম্মান করা হয় যে তার জন্মদিন ১২ সেপ্টেম্বরকে তার সম্মানে বিশেষভাবে নামকরণ করা হয়েছে।
তবে একটি বিতর্ক রয়েছে, বব বিরার্দাকে নিয়ে কানাডা সকারের ভূমিকা। বিরার্দা ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের নারী ফুটবল কর্মসূচির প্রধান এবং কানাডা নারী অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ ছিলেন। ২০০৮ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের কিছুদিন আগে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। তবে এরপরও মেয়েদের বিভিন্ন দলের কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। পরে যৌন নিপীড়নের দায়ে তাকে কারাদন্ড দেওয়া হয়।
সেই সময় কানাডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ছিলেন মন্তাগ্লিয়ানি। বিরার্দার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল এমন দাবি তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তবে এই ঘটনা তদন্তে কানাডা সকারের নিয়োগ করা ২০২২ সালের ম্যাকলারেন প্রতিবেদনে কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, "বিরার্দাকে বরখাস্ত করতে কানাডা সকারের ব্যর্থতার ফলে তিনি... অন্য খেলোয়াড়দের সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।"
তারপরও মন্তাগ্লিয়ানিকে প্রাণবন্ত ও সমন্বয়ক হিসেবে দেখা হয়। তিনি যদি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন, তাহলে কনকাকাফের সভাপতি নির্বাচনের প্রচারে যে দৃঢ় সংকল্প দেখিয়েছিলেন, এবারও সম্ভবত একই মানসিকতা নিয়ে এগোবেন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিজনেস ওয়েবসাইটকে তিনি বলেছিলেন, "যেকোনো কিছুর মতোই, যখন আমি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, তখন আমি যাই। আমি নিজের অর্থে তিন মাস প্রচার চালিয়েছি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভেনেজুয়েলার উপকূলের ছোট্ট দ্বীপ বোনায়ার পর্যন্ত ৪১টি দেশ সফর করেছি।"








