ঢাকা, ২৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল জাতীয় দলের নেতৃত্বে নতুন কাঠামো ঘোষণা করেছেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওয়ানডে দলের অধিনায়ক করা হয়েছে লিটন দাসকে।
এই ফরম্যাটে লিটন মেহেদী হাসান মিরাজের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
এর ফলে সাদা বলের দুই সংস্করণ- ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি, দুটিতেই বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন। এর আগে থেকেই তিনি টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে বহাল থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
তামিম ইকবাল বলেন, দলের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় এই নতুন নেতৃত্ব কাঠামো অনুমোদন করেছে বোর্ড।
সাদা বলের ক্রিকেটে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে তাওহীদ হৃদয়কে। আর লাল বলের ক্রিকেটে সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
মেহেদী হাসান মিরাজকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তামিম তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, অলরাউন্ডার হিসেবে দলের জন্য তাঁর পারফরম্যান্সই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তামিম বলেন, "সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে অধিনায়ক হিসেবে মিরাজ দারুণ কাজ করেছে। তবে আমরা চাই সে পুরো মনোযোগ ব্যাটিং ও বোলিংয়ে দিক এবং আমরা তার কাছ থেকে যে মানের পারফরম্যান্স আশা করি, সেখানে ফিরে আসুক।"
তিনি আরও জানান, মিরাজের সঙ্গে আলোচনা করে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তামিম ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে মিরাজ আবারও নেতৃত্বের ভূমিকায় ফিরতে পারেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিন সংস্করণের জন্য তিনজন আলাদা অধিনায়ক না রাখার পেছনে খেলোয়াড়দের ইনজুরির বিষয়টিকে বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরেন তামিম।
এছাড়াও তিনি বলেন, দেশের পেসারদের মধ্যে ইনজুরির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তাদের কাজের চাপ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তামিম বলেন, "তিনজন অধিনায়ক থাকলে প্রত্যেকেই নিজের ফরম্যাটে সেরা বোলারদের খেলাতে চাইবে, এতে খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কিন্তু সাদা বল ও লাল বলে আলাদা অধিনায়ক থাকলে তারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে বোলারদের কাজের চাপ আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।"
তিনি আরও জানান, জিম্বাবুয়ে সফর শেষে কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ছয় মাসের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যার লক্ষ্য জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের উন্নতি।








