ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ১৫ জুলাই রাত ১টায় মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে চতুর্থ এবং টানা তৃতীয়বার ফাইনালে উঠার লক্ষ্যে নিয়ে মাঠে নামবে দু'বারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।
অন্যদিকে স্পেনের লক্ষ্য দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা। প্রথম ও শেষবার ২০১০ সালে ফাইনাল খেলেছিল স্প্যানিশরা। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করেছিল স্পেন। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল স্প্যানিশরা।
ফ্রান্স ও স্পেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালের আগে অতীতে হওয়া দু'দলের মধ্যকার সেরা পাঁচ লড়াইয়ে চোখ বোলানো যাক।
-আরকোনাদার মারাত্মক ভুল, ফ্রান্সের প্রথম শিরোপা-
১৯৮৪ সালে ইউরোপীয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে ফ্রান্স। ফাইনালে স্পেনকে ২-০ গোলে হারায় তারা।
১৯৮৪ সালে ইউরো ফাইনালে ইউরোপের দুই প্রতিবেশী ফ্রান্স ও স্পেনের কোন প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টের প্রথম দেখা হয়েছিল। মিশেল প্লাতিনির নেতৃত্বে প্রথম কোন আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের স্বাদ পায় ফ্রান্স।
প্যারিসের পার্ক ডি প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত ঐ ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হলেও, ৫৭ মিনিটে গোল করে ফ্রান্সকে প্রথম এগিয়ে দেন প্লাতিনি। ডি বক্সের বাইরে থেকে প্লাতিনির ফ্রি-কিক স্পেনের গোলরক্ষক লুইস আরকোনাদার হাত ফসকে বল জালে প্রবেশ করে। ঐ টুর্নামেন্টের পাঁচ ম্যাচে এটি নবম গোল ছিল প্লাতিনির।
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ফ্রান্সের লে রুক্স লাল কার্ড দেখলে দশ জনের দলে পরিণত হয় ফ্রান্স। তবে ৯০ মিনিটে ব্রুনো বেলোনে গোল করলে ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলেই ফাইনাল জিতে শিরোপা ঘরে তুলে ফরাসিরা।
এরপর ২০০৮ সালে ইউরো জয়ের আগে আর কোন প্রতিযোগিতামূলক আসরের ফাইনালে উঠতে পারেনি স্পেন।
- হ্যানোভারে ফরাসিদের প্রত্যাবর্তন -
২০০৬ সালের বিশ্বকাপের শেষ ষোলো ফ্রান্স ৩ : স্পেন ১
গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের ১টিতে জয় ও ২টিতে হেরে ৫ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে ফ্রান্স। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোর টিকিট পায় স্পেন। এরপর হ্যানোভারে শেষ ষোলোতে দেখা হয় ফ্রান্স ও স্পেনের। কাগজে কলমে ফেভারিটের তকমাটা স্পেনের গায়েই ছিল। সেটি মাঠে প্রমাণ করতে খুব বেশি সময় নেয়নি স্প্যানিশরা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। পেনাল্টি থেকে গোল করেন ডেভিড ভিয়া।
তবে লিড ধরে রাখতে পারেনি স্পেন। প্রথমার্ধেই গোল পরিশোধ করে ফ্রান্স। ৪১ মিনিটে ফ্রাঙ্ক রিবেরির গোলে ম্যাচে সমতা পায় ফরাসিরা।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া থাকে ফ্রান্স ও স্পেন। অবশেষে ৮৩ মিনিটে প্যাট্রিক ভিয়েরার গোলে ম্যাচে লিড নেয় ফ্রান্স। এরপর ইনজুরি সময়ে স্পেনের জালে তৃতীয়বারের মতো বল পাঠান ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান। ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ফ্রান্স।
শেষ আটে ব্রাজিলকে ও সেমিফাইনালে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে ফ্রান্স। কিন্তু ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারে ফরাসিরা। - নেশন্স লিগ জিতলেন এমবাপ্পে -
২০২১ উয়েফা নেশন্স লিগ ফাইনাল : স্পেন ১ - ফ্রান্স ২
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেনের। যার শুরুটা হয়েছিল মিলানে অনুষ্ঠিত ২০২১ সালের নেশন্স লিগের ফাইনাল দিয়ে।
কোভিড মহামারির কারণে সীমিত সংখ্যক দর্শকের সামনে, খেলার প্রথমভাগে কোন দলই গোল করতে পারেনি। ৬৪ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন স্পেনের মিকেল ওয়ারজাবাল। ১-০ গোলের লিড নেয় লুইস এনরিকের স্পেন।
পিছিয়ে পড়ার দুই মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরায় রিয়াল মাদ্রিদের স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা। কিলিয়ান এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন বেনজেমা।
ম্যাচের সমতা ফিরিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় ফ্রান্স। এবার ৮০ মিনিটে নিজেই গোলদাতার তালিকায় নাম তুলেন এমবাপ্পে। এতে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের অধীনে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয় শিরোপা জিতে নেয় ফ্রান্স। - ইয়ামালের বিস্ময়কর গোল-
ইউরো ২০২৪ সেমিফাইনাল : স্পেন ২ - ফ্রান্স ১
ইউরো ২০২৪ সালের দল থেকে চলতি বিশ্বকাপের ফ্রান্স দল একেবারেই ভিন্ন। ঐ আসরে পাঁচ ম্যাচে তিনটি গোল করে শেষ চারের টিকিট পায় ফরাসিরা। যার মধ্যে একটি পেনাল্টি এবং অন্য দু'টি আত্মঘাতী গোল ছিল।
মিউনিখে স্পেনের বিপক্ষে সেমি ফাইনালে খেলার শুরুতে নবম মিনিটে এমবাপ্পের দারুণ পাস থেকে হেডে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন রান্ডাল কোলো মুয়ানি। টুর্নামেন্টে প্রথম ফরাসি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করেন মুয়ানি।
তবে ১৭তম জন্মদিনের চার দিন আগে ডি-বক্সের বাইরে বাঁকানো শটে গোল করেন লামিন ইয়ামাল। এতে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায় স্পেন। ৪ মিনিট পর দানি ওলমো গোলে দ্বিগুণ লিড নেয় স্পেন। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ব্যবধান ধরে রেখে ফাইনালে উঠে স্পেন। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলে স্প্যানিশরা।
- নয় গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ -
২০২৫ সালে উয়েফা নেশন্স লিগ সেমিফাইনাল : স্পেন ৫- ফ্রান্স ৪
গত বছরের জুন মাসে স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও স্পেন।
নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনোর গোলে ২৫ মিনিটেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। এরপর ৫৪ মিনিটে লামিন ইয়ামালের পেনাল্টি এবং ৫৫ মিনিটে পেদ্রির গোলে ৪-০ গোলে এগিয়ে সহজ জয় দেখছিল স্পেন।
৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল ব্যবধান কমায় ফ্রান্স। তবে ৬৭ মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় স্পেন। পেনাল্টি থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। ৫-১ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।
পাঁচ গোল হজম করেও দমে যায়নি ফ্রান্স। ম্যাচে ফিরতে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে তারা। ৭৯ মিনিটে রায়ান চেরকি, ৮৪ মিনিটে দানি ভিভিয়ানের আত্মঘাতী গোল এবং ৯৩ মিনিটে ও রান্দাল কোলো মুয়ানির গোলে ব্যবধান ৫-৪এ নামিয়ে আনে ফ্রান্স। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হয়নি ফরাসিদের। নয় গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ হেরে সেমি থেকে বিদায় নেয় তারা।
ফাইনালে টাইব্রেকারে পর্তুগালের কাছে হেরে যায় যায় স্পেন। নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে সমতা থাকার পর পেনাল্টিতে ৫-৩ গোলে হারে স্প্যানিশরা।
২০২৪ অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জয়ের ম্যাচে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারিয়েছিল স্পেন।








