ঢাকা, ১১ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : আরও একবার সুপার সাব মিকেল মেরিনোর গোলে স্পেনের জয় নিশ্চিত হয়েছে। বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে এসে ৮৮ মিনিটে মেরিনো জয়সূচক গোলটি করেন। তার এই গোলে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে স্পেন শেষ চারের টিকিট কেটেছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।
এটি ছিল আর্সেনাল মিডফিল্ডারের টানা দ্বিতীয় ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে করা শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোল।
এর আগে সোমবার পর্তুগালের বিপক্ষেও যোগ করা সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেছিলেন।
আগামী মঙ্গলবার ডালাসে ব্লক বাস্টার সেমিফাইনালে টুর্নামেন্ট ফেবারিট ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
স্পেনের এই জয়ে হৃদয় ভেঙ্গেছে বেলজিয়ামের। বদলী গোলরক্ষক সেনে লামেন্স শেষ মুহূর্তে পাও কুবার্সির শট রুখে দিয়েছিলেন। কিন্তু ফিরতি শটে মেরিনোর শট আর আটকাতে পারেননি। এর আগে স্পেনকে এগিয়ে দেন ফাবিয়ান রুইজ। বিরতির ঠিক আগে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান চার্লস ডি কেটেলার।
মূল একাদশে কাল বেলজিয়ামের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন অভিজ্ঞ কেভিন ডি ব্রুইনা ও জেরমি ডোকু।
অনুশীলনে অধিনায়ক ইউরি টিয়েলেমান্স হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে ছিটকে গেলে কাল দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ডি ব্রুইনা। আগেই পেশীর ইনজুরির কারনে দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন আমাডু ওনানা। যে কারনে রেড ডেভিলসদের বাধ্য হয়েই দ্বিতীয় পছন্দের মিডফিল্ড নিয়ে মাঠে নামতে হয়। এই সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়েছে তারকা সমৃদ্ধ স্প্যানিশ আক্রমনভাগ।
পেড্রির পরিবর্তে মাঠে নামা রুইজ মধ্যমাঠে রড্রির সাথে সমন্বয় করে বলের পজিশন নিয়েছেন। বার্সেলোনার টিন সেনসেশন লামিন ইয়ামালের শট অল্পের জন্য পোস্টে বাইরে দিয়ে চলে যায়। বিপরীতে বেলজিয়ান উইঙ্গার ডোকু শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমনাত্মক। বাম দিক থেকে তার বাড়ানো একটি বল ডি কেটেলারের কাজে লাগাতে পারেননি। আক্রমনের দিক থেকে বেলজিয়াম এগিয়ে থাকলেও লিড পায় স্পেন। ৩০ মিনিটে পেড্রো পোরোর কাট-ব্যাকে বল পেয়ে যান ডানি ওলমো। তার শট থিকো কোর্তোয়া রুখে দিলেও ফিরতি শটে বল জালে জড়ান রুইজ।
হঠাৎ করেই পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয় স্পেন। বেলজিয়ান অর্ধে তারা একের পর এক পাস করে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখে। তবে বেলজিয়ামও ছেড়ে কথা বলেনি। যখনই সুযোগ পেয়েছে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ৪১ মিনিটে ডি ব্রুইনার থ্রু বলে টিমোথি কাস্টাগনের ক্রসে ডি কেটেলারের নিখুঁত হেডে পরাস্ত হন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সাইমন। এবারের বিশ্বকাপে সাইমনের এটাই প্রথম গোল হজম।
বিরতির আগে বেলজিয়াম আরেকটি গোল প্রায় করে ফেলেছিল। স্পেনের একটি কর্নার থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে তারা। পুরোপুরি ফাঁকায় থাকা জেরেমি ডোকুর উদ্দেশে ডি কেটেলারের বাড়ানো পাসটি শেষ মুহূর্তে কষ্ট করে প্রতিহত করেন ওলমো।
বিরতির পর ধীরে ধীরে খেলায় নিজের ছাপ রাখতে শুরু করেন লামিন ইয়ামাল। তার দারুণ এক ক্রস থেকে মিকেল ওয়ারজাবাল গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সামনে এগিয়ে আসা থিবো কোর্তোয়া অসাধারণভাবে সেটি ঠেকিয়ে দেন।
বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামান। বদলি হিসেবে নেমে আগের টানা তিন ম্যাচেই গোল করেছিলেন তিনি।
এরপর ম্যাচটি আরও উন্মুক্ত হয়ে ওঠে। বেলজিয়ামের একটি ক্রস রদ্রির হাতে লাগলেও রেফারি সেটিকে অনিচ্ছাকৃত বলে মনে করেন। ৭০ মিনিটে চোট পেয়ে চোখের জলে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কোর্তোয়া। তার বদলি হিসেবে নামেন ২৪ বছর বয়সী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গোলরক্ষক সেনে লামেন্স। কঠিন পরিস্থিতিতে ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামেন।
কিন্তু তার জন্য অভিষেকটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। ৮৮তম মিনিটে দূরপাল্লার নিচু শট নেন কুবারসি। লামেন্সের বলটি রুখে দিলেও তা নিয়ন্ত্রনে নিতে ব্যর্থ হন। ফিরতি বলে মিকেল মেরিনো জোরালো শটে জালে বল পাঠান।
ম্যাচের শেষ দিকে আলেক্সিস সালেমাকার্স স্পেনের গোলরক্ষক উনাইকে কাটিয়ে গেলেও গোলমুখে থাকা লুকাকুর কাছে বল পৌঁছে দিতে পারেননি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কোর্তোয়া লামেন্সকে জড়িয়ে ধরেন। এই পরাজয়ে বেলজিয়ামের স্বর্ণযুগের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তিটাও সকলে দেখে ফেললো।








