ঢাকা, ২৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : পর্তুগালের সাথে নাটকীয় এক ম্যাচে গোলশুন্য ড্র করে কে-গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে কলম্বিয়া।
অল্পের জন্য অফসাইডের কারনে ডেভিনসন সানচেজের গোল বাতিল না হলে কলম্বিয়া হয়তো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারতো। আগামী শুক্রবার শেষ ৩২ রাউন্ডে কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ ঘানা। অন্যদিকে রানার্স-আপ পর্তুগাল মোকাবেলা করবে এল-গ্রুপের দ্বিতীয় দল ক্রোয়েশিয়ার। এই ম্যাচের মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক দুই সতীর্থ ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ও লুকা মড্রিচের দেখা হতে যাচ্ছে।
দ্রুতগতির ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। বরং তার সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ৩৪ বছর বয়সী হামেস রদ্রিগেসই ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল গ্যালারিভর্তি কলম্বিয়ান সমর্থকদের অবিরাম গর্জনে মুখর।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল কলম্বিয়া। বায়ার্ন মিউনিখ তারকা লুইস দিয়াজের অসাধারণ পাস থেকে জন কর্দোবা খুব কাছ থেকে হেড করলেও বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
১৭তম মিনিটে কর্দোবা আবারও গোলের খুব কাছে পৌঁছে যান। দুর্দান্ত দক্ষতায় ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শক্তিশালী শট নিলেও পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা চমৎকারভাবে তা প্রতিহত করেন।
পর্তুগালের ভরসা যেমন অভিজ্ঞ রোনালদো, তেমনি কলম্বিয়ার প্রাণভোমরা হামেস রদ্রিগেস। নিজ দেশের হয়ে রেকর্ড ১১তম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমে ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার আবারও নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন। তার দারুন ব্যাকহিল-ধাঁচের রিভার্স পাস থেকে জন আরিয়াস শট নিলেও রুবেন নেভেস গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করেন।
প্রথমার্ধে রোনাল্ডোর উল্লেখযোগ্য অবদান বলতে ছিল একটি ফ্রি-কিক, যা সরাসরি কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসের হাতে জমা পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরই ভার্গাস অসাধারণ এক সেভ করে ব্রুনো ফার্নান্দেসকে গোলবঞ্চিত করেন।
রদ্রিগেস পুরো ম্যাচে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছিলেন। বিরতির ঠিক আগে তার একটি শট কস্তা সহজেই রুখে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধও শুরু হয় একই তীব্র গতিতে। দিয়েগো ডালোটের ক্রস থেকে হুয়াও ফেলিক্সের হেড গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে গেলে আবারও হতাশ হতে হয় পর্তুগালকে। এর জবাবে কলম্বিয়া টানা দুটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। প্রথমে জেফারসন লেরমার শট ফিরিয়ে দেন কস্তা, এরপর জন আরিয়াসও গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ।
বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই রিচার্ড রিওস গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে ম্যাচের গতি পুরোপুরি ধরতে না পারায় দারুণ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি।
দারুণ পারফরম্যান্সের পর ম্যাচ শেষ হতে ১৫ মিনিট বাকি থাকতে রদ্রিগেস মাঠ ছাড়েন। কিন্তু পর্তুগালের কোচ রবার্টো মার্তিনেজ ফেলিক্স ও ভিতিনিয়াকে তুলে নিলেও পুরো ম্যাচে প্রায় অকার্যকর থাকা রোনাল্ডোকে মাঠে রাখেন।
কর্নার থেকে সানচেজের হেড জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল হয়।








