প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশে কর্মসংস্থান হোক, নাগরিকরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হোক, নারীর উন্নয়ন হোক। নারীর উন্নয়ন একটা দেশের উন্নয়নের পরিমাপক।’
গতকাল দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) হলরুমে ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবনমান উন্নয়নে সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পল্লী উন্নয়ন একাডেমি এ সেমিনারের আয়োজন করে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আপনার খেয়াল করেছেন তার (পতিত সরকারের) সময় কি পরিমাণে নারীর প্রতি সহিংসতা ও জুলুম হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ জুলুম-অত্যাচার হয়েছে তা বর্ণনাহীন। আমরা দেখতে চাই যে বাংলাদেশের সবার অধিকার আছে। কেউ সংখ্যালঘু না, সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী ইশতাহারে পাঁচটি অধ্যায় আছে। প্রথম অধ্যায় রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কার। অর্থাৎ আমরা চাই আইনের শাসন, আমাদের সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করবে। কারণ আগে যে পতিত সরকার ছিল, তার না ছিল বৈধতা, না ছিল আইনি কাঠামো। ফলে নিজে লুটপাট চালিয়ে গেছে। জনকল্যাণে কোনো কাজ হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘দ্বিতীয় বিষয়ে যেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা। আমরা অনুসন্ধান করেছি, ভবন নির্মাণে যেভাবে লুটপাট করা হয়েছে, ঠিক একই কায়দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদরাসা করা হয়েছে, স্কুল করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। কিন্তু বেকারত্বের যে অভিশাপ পতিত সরকার রেখে গেছে, তা আপনারা প্রতিটি পরিবারে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। আপনি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাচ্ছেন, কোনো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অ্যাম্বুলেন্স আছে। অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার নেই। যন্ত্র আছে। যন্ত্র চালানোর মেকানিক নেই।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম জিলানী, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সদস্য ডা. কেএম বাবর, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, খুলনার দাকোপ উপজেলার কৃষক নিমাই কুমার রায়সহ অনেকে বক্তব্য দেন।
কৃষক নিমাই কুমার রায় তার বক্তব্যে বলেন, ‘বনদস্যুদের আক্রমণ, রাস্তাঘাট অনুন্নত ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন হয়নি। এ কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে আমাদের জীবনবাজি রেখে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। আমরা টেকসই উন্নয়ন চাই। পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের কার্যকরী উদ্যোগ দিতে হবে। তাহলেই আমাদের জীবনমানের সত্যিকারের উন্নয়ন হবে।
নতুন সরকার আমাদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।








