ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের পর এবার বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে চান হ্যারি কেইন। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বড় আন্তর্জাতিক শিরোপার অপেক্ষা ঘোচানোও তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
নিজের জন্মশহর লন্ডনে সোমবার কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পেয়েছেন কেইন। এর মধ্য দিয়ে ২৫ বছর পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতলেন ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।
গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেন কেইন। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বায়ার্ন জেতে লিগ ও কাপের শিরোপা। সেই সাফল্যের স্বীকৃতিই পেলেন তিনি ব্যালন ডি’অর জিতে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বলেন, “এটাকে স্বপ্নপূরণ বলতে পারতাম, কিন্তু এটি আমার কল্পনারও বাইরে। অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য।”
তিনি আরও বলেন, “ইংল্যান্ড ও আমাদের দেশের জন্য এটি অনেক বড় অর্জন। লন্ডনে অনুষ্ঠানটি হওয়া আমার জন্য শুভ লক্ষণ ছিল। এই পুরস্কার জিততে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। ইংল্যান্ডকে আবার ফুটবলবিশ্বের আলোচনায় ফিরিয়ে এনে এই ট্রফি হাতে নিতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত।”
ইংল্যান্ড ও টটেনহ্যামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন। তবে ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর থেকে তাঁর দলীয় শিরোপার সংগ্রহ সীমাবদ্ধ থেকেছে জার্মানির ঘরোয়া প্রতিযোগিতায়।
গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে পিএসজির কাছে হেরে বিদায় নেয় বায়ার্ন।
অন্যদিকে, ২০২১ ও ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে হারের পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজয়ও কেইনের জন্য ছিল বড় হতাশার।
তবে ৩৩ বছর বয়সেও ফুটবলের সবচেয়ে বড় শিরোপাগুলোর কয়েকটি জেতার সামর্থ্য রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
কেইন বলেন, “ফুটবরে আমার এখনো অনেক কিছু অর্জন করার বাকি। ক্লাব পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা এবং ইংল্যান্ডের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জয়ই নিশ্চিতভাবে আমার প্রধান লক্ষ্য। আরও অনেক কিছু অর্জন করতে চাই।”
স্পেনের ইয়ামাল ও ফ্রান্সের অধিনায়ক এমবাপ্পে কিশোর বয়সেই বিশ্বকাপ জিতেছেন। তাঁদের মতো অল্প বয়স থেকেই কেইনকে ভবিষ্যতের মহাতারকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
টটেনহ্যাম মূল দলে সুযোগ দেবার আগে তাঁকে চারবার ধারে লোয়ার বিভাগের ক্লাবে পাঠিয়েছিল। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সেই কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁকে দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে সাফল্যের জন্য লড়াই করার প্রেরণা জুগিয়েছে।
কেইন বলেন, “ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমাকে অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সে সময় পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এবং জীবনের নানা ক্ষেত্রে নিজেকে চিনতে শিখছিলাম।
“আমি নিজের উন্নতির উপায় খুঁজেছি। এমনকি হয়তো আমার চেয়ে বেশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরও ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
“আমার মনে হয়, সেই অভিজ্ঞতাগুলো একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমাকে গড়ে তুলেছে। আমি কখনোই কোনো অর্জনকে সহজভাবে নিই না। কারণ আমি জানি, সব সময় আমার মতো কেউ না কেউ কিংবা আমার চেয়ে কম বয়সী কোনো খেলোয়াড় আমার জায়গা নেওয়ার চেষ্টা করছে, সেটা ইংল্যান্ড দলে হোক বা বায়ার্নে।”








