৪ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা: ...
রাজনীতি

নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করলে জনগণের যাওয়ার জায়গা থাকে না : জাহেদ উর রহমান

Md. Ibrahim Mollahঢাকা

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬: নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করে দিলে সাধারণ নাগরিকের আর যাওয়ার জায়গা থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করলে জনগণের যাওয়ার জায়গা থাকে না : জাহেদ উর রহমান

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬: নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করে দিলে সাধারণ নাগরিকের আর যাওয়ার জায়গা থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর তৃতীয় পর্ব ‘তিয়াত্তরের নির্বাচন: ভোটচুরির আওয়ামী মডেলের সূচনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারের সঞ্চালক ছিলেন লেখক ও গবেষক তুহিন খান।

ডা. জাহেদ বলেন, অনেকেই সমালোচনা করে বলে, বিএনপি শুধু নির্বাচন নির্বাচন করে। এটা বললে জনগণের ভোটের অধিকারকেই অস্বীকার করা হয়।

তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের নানা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান থাকলেও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চাকে ধ্বংস করেছিলেন তিনি।

তিয়াত্তরের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের হারার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না- উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তবু তিনি ভোটে কারচুপি করেছিলেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা জানতেন, এমন একটি বিরোধী দল তার সামনে আছে, যাদের সঙ্গে ফেয়ার ইলেকশন করলে তিনি হারবেন। তাই ক্ষমতায় থাকার জন্য তিনি নির্বাচনগুলোকে কুক্ষিগত করেছিলেন।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা। তিনি বলেন, তিয়াত্তরের নির্বাচনে বাকেরগঞ্জ-৪ আসনে শেখ মুজিবের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাসদের প্রার্থী আজহার উদ্দিন আহমেদ। নির্বাচনের আগে তাকে অপহরণ করা হয় এবং ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে শেখ মুজিবকে বিজয়ী করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের রক্ত ও লড়াইয়ের ইতিহাসকে আওয়ামী লীগ কুক্ষিগত করে একচ্ছত্র দাবিদার হয়ে উঠেছিল। সেই মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ দেখেছি তিয়াত্তরের নির্বাচনেও। আওয়ামী লীগ তখনও একদলীয় শাসনই শুধু নয়; বরং এক ব্যক্তির শাসনে দেশ চালাতে চেয়েছিল। এর ধারাবাহিকতা আমরা দেখতে পাই শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনেও। শেখ মুজিব সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, দেশে কোনো বিরোধী দল নেই। তেমনি শেখ হাসিনাও প্রচার করে গেছেন, তার কোনো বিকল্প নেই।

আরেক আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর একবার শুনলাম শেখ মুজিবুর রহমান দেশের অভিভাবক হিসেবে রাজনীতিতে অংশ নেবেন না। পরে আবার দেখলাম, তিনি এসে তাজউদ্দীন আহমদকে সরিয়ে সরকারে যুক্ত হলেন। পরে তিনি সংবিধান লেখার উদ্যোগ নিলেন। সংবিধানের প্রথম পরীক্ষা ছিল জাতীয় নির্বাচন। কিন্তু সেটি হয়েছিল একদলীয় নির্বাচন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ গঠিত হয়েছিল বিরোধী দল ছাড়া, যা গণতন্ত্রের জন্য অসম্মানজনক।

তিনি বলেন, অনেকেই বলে বঙ্গবন্ধু নিজে এসব করতে বলেন নাই। কিন্তু বঙ্গবন্ধু নিজ দলের লোকের এই অপকর্মকে রুখতে পারেননি, নিজ দলের লাগাম টেনে ধরতে পারেননি, এটি ছিল তার ব্যর্থতা।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য ছিল উল্লেখ করে আবু সাঈদ খান বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই ভালো নির্বাচন হয়নি। এ কারণেই আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। যার কারণে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠানটির সভাপতি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন স্বর একই মঞ্চে এসে উচ্চারিত হওয়ার জায়গা করে দিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। আমরা সবার কথা শুনব, তারপর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেব, কোনো কিছু চাপিয়ে দেব না। এটাই জুলাইয়ের শক্তি।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর ছিল অন্ধকার যুগ। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমি জানি, সে সময়ে রাষ্ট্রীয় নির্দেশে সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখনকার সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কল্পনাও করা যায় না যে তখন দেশে মাত্র একটি টেলিভিশন চ্যানেল এবং ৪টি দৈনিক পত্রিকা ছিল। সেগুলোও ছিল সরকার নিয়ন্ত্রিত। অর্থাৎ আপনি কোন কোন নিউজ ছাপবেন, সেটা সরকারের প্রেসক্রিপশন করা থাকত।

এহসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের গোড়াপত্তন হয়েছিল মূলত বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরের সময়টাতেই।

উল্লেখ্য, সেমিনার সিরিজটির চতুর্থ পর্ব ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী এক দশকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির তুলনামূলক পর্যালোচনা’ হবে আগামীকাল বুধবার দুপুর ৩টায় জুলাই জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত নিবন্ধ

কুষ্টিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

কুষ্টিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

কুষ্টিয়া,৪ নভেম্বর ২০২৬(বাসস): জেলায় আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

11/4/2026

সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

যশোর, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

11/4/2026

বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট যাচ্ছেন।

11/4/2026

কুড়িগ্রামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা

কুড়িগ্রামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা

কুড়িগ্রাম,৩ নভেম্বর,২০২৬(বাসস) : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে জেলায় একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

11/3/2026

শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতায় আওয়ামী লীগের অর্থ খরচের সংযোগ থাকতে পারে : তথ্য উপদেষ্টা

শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতায় আওয়ামী লীগের অর্থ খরচের সংযোগ থাকতে পারে : তথ্য উপদেষ্টা

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬: পোশাক শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করা সত্ত্বেও চলমান আন্দোলনে সহিংসতা ও নাশকতার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের লুটপাটের অর্থ বিনিয়োগের সংযোগ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

11/3/2026

খোদেজা বেগমের মৃত্যুতে রুহুল কবির রিজভীর শোক

খোদেজা বেগমের মৃত্যুতে রুহুল কবির রিজভীর শোক

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ফেনী জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন খোকন চেয়ারম্যানের মা খোদেজা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

11/2/2026

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে : ধর্মমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে : ধর্মমন্ত্রী

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ব্যবসা করেছে। বর্তমানে আরেকটি দল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করে একই ধরনের ব্যবসা করছে।

11/2/2026

চাঁদাবাজি-মাস্তানির বিরুদ্ধে বিএনপির জিরো টলারেন্স : রুহুল কবির রিজভী

চাঁদাবাজি-মাস্তানির বিরুদ্ধে বিএনপির জিরো টলারেন্স : রুহুল কবির রিজভী

সিলেট, ২ নভেম্বর, ২০২৬: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও সব ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান জিরো টলারেন্স।

11/2/2026