ঢাকা, ৭ জুন ২০২৬ (বাসস) : আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করলেও জয় নিশ্চিত করতে পারেনি কানাডা।
কানাডা কখনও বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ জেতেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে এবং ঘরের মাঠের সুবিধার পাশাপাশি আলফোনসো ডেভিসের মতো তারকাদের নিয়ে এবার বড় প্রভাব ফেলার আশা করছে।
মন্ট্রিয়ালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কানাডা খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে এবং প্রথমার্ধে আয়ারল্যান্ডের একটি আত্মঘাতী গোলে এগিয়েও যায়। তবে সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি তারা।
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে চেইডোজি ওগবেনে সমতা ফেরান। এর আগে ট্রয় প্যারটের নেওয়া পেনাল্টি কানাডার গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে ওগবেনে গোল করেন।
বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া আয়ারল্যান্ড দলের বিপক্ষে এই ফলাফল কানাডার জন্য হতাশাজনক, বিশেষ করে সপ্তাহের শুরুতে উজবেকিস্তানকে ২-০ গোলে হারানোর পর।
কানাডার কোচ জেসি মার্শ বলেন, "অবশ্যই আমরা আরও গোল করতে এবং ম্যাচ জিততে চেয়েছিলাম। তবে শুরু থেকে আমাদের শক্তি, ম্যাচে খেলার ধরন এবং পরিকল্পনাগুলো খুবই ভালো ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে একটি পাল্টা আক্রমণ আমাদের ক্ষতি করেছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে এটি একটি ভালো পারফরম্যান্স। গোল এবং ভুল দুটিই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়, তাই কিছু বিষয় আমাদের আরও ঠিকঠাক করতে হবে।"
প্রথমার্ধে কানাডা একের পর এক সুযোগ তৈরি করে। স্টিফেন উস্তাকিওর কর্নার প্রথমে প্যারট এবং পরে জেক ও'ব্রায়ানের গায়ে লেগে জালে জড়ায়।
খেলার ধারার বিপরীতে আয়ারল্যান্ডের গোল এবং পরপর কয়েকটি বদলি খেলোয়াড় নামানোর ফলে কানাডার ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। শেষদিকে মেসন মেলিয়া বদলি হিসেবে নেমে প্রায় জয়সূচক গোল করে ফেলেছিলেন।
বিশ্বকাপে কানাডা গ্রুপ 'বি'-তে খেলবে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, কাতার ও সুইজারল্যান্ডের এর সঙ্গে। সুইজারল্যান্ডকে গ্রুপের ফেবারিট ধরা হলেও, অনেকের মতে এটি কানাডার জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল ড্র।
কানাডার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১২ জুন টরন্টোতে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর তারা ভ্যাঙ্কুভারে কাতার ও সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।
এর আগে বিশ্বকাপে কানাডা দুইবার অংশ নিয়েছিল, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে। দুই আসরে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলে তারা সবকটিতেই হেরেছে।
তবে ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে উঠে কানাডা অনেককে চমকে দেয়। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তারা পেনাল্টি শুটআউটে উরুগুয়ের কাছে অল্প ব্যবধানে হেরে যায়।
কোচ মার্শ তার বর্তমান দল সম্পর্কে বলেছেন, "এটি সম্ভবত এই দেশের ইতিহাসে একসঙ্গে গড়ে ওঠা সেরা ২৬ জন খেলোয়াড়ের দল।"
তবে কানাডার সবচেয়ে বড় ভরসা আলফোনসো ডেভিস বর্তমানে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছেন এবং শুক্রবারের ম্যাচে খেলেননি। তিনি দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য সময়ের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং বসনিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে তার শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা কম।








