ঢাকা, ১১ অক্টোবর ২০২৬: শনিবার গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে লা লিগায় মৌসুমের শুরুতে নিজেদের শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। এই জয়ে অ্যান্থনি গর্ডন বার্সেলোনার হয়ে নিজের প্রথম গোল করেছেন।
এদিকে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ভিনিসিয়াস জুনিয়র প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে চুল টানার অপরাধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও ১-০ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ইয়ান দিয়োমান্দের গোলে হোসে মরিনহোর দলের জয় নিশ্চিত হয়। লিগে তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
বার্সেলোনার চেয়ে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে রিয়াল। অন্যদিকে দিয়েগো সিমিওনের দল আলাভেসের মাঠে শেষ মুহূর্তে ২-১ গোলে জেতায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে বার্সেলোনা।
ইংল্যান্ডের উইঙ্গার গর্ডন ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন। আধঘণ্টা পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত খেলা প্রতিটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে লিগের শীর্ষে থাকা দলটি।
ক্যাম্প ন্যুতে হোসে বোরদালাসের দলের বিপক্ষে বার্সেলোনার দাপুটে জয় নিশ্চিত করেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডার জুলেস কুন্দে। লামিনে ইয়ামালের ক্রস থেকে গোল করেন তিনি। ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক বিরতির সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় পড়ায় বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতা রাফিনিয়াকে এ ম্যাচে পায়নি দলটি। তার পরিবর্তে সাবেক আর্সেনাল স্ট্রাইকার ও ব্রাজিল জাতীয় দলের সতীর্থ জেসুসকে খেলান কোচ হান্সি ফ্লিক।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া এবং তৃতীয় গোল করার পর জেসুস বলেন, “বার্সেলোনায় থাকা একটি স্বপ্নের মতো... এই খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলাটাও খুব সহজ। সবাই দারুণ খেলে।”
তিনি আরও বলেন, “এতে একজন স্ট্রাইকার হিসেবে আমার কাজ সহজ হয়ে যায়, গোলের সুযোগ পাওয়া যায়। আমি গোল করার জন্য প্রস্তুত। তবে আমি আশা করি, রাফা দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরবে। কারণ অবশ্যই দল তাকে মিস করছে।”
গ্রীষ্মে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর থেকে নজর কাড়া পারফরম্যান্স দেখানো গর্ডন তিনজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে নিচু শটে গোল করেন। শটটি ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। প্রথমার্ধে বার্সেলোনার সবচেয়ে উজ্জ্বল খেলোয়াড় ছিলেন গর্ডন। সাম্প্রতিক নেশনস লিগের ম্যাচগুলোতে ইংল্যান্ডের হয়ে তার গোল করার ধারাবাহিকতাও বজায় ছিল।
বার্সেলোনার দ্বিতীয় গোলের সময় নিজেদের পেনাল্টি বক্সে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান গেতাফের ডিফেন্ডার জায়েদ রোমেরো। সরাসরি জেসুসের পায়ে বল তুলে দেন তিনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিচের কোণে বল পাঠান জেসুস।
ম্যাচে তুলনামূলক নিষ্প্রভ থাকা ইয়ামাল তৃতীয় গোলের জন্য কুন্দেকে বল বাড়িয়ে দেন। এর মধ্য দিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচে নবম জয় তুলে নেয় বার্সেলোনা।
রিয়াল মাদ্রিদের রেকর্ড ১৪ কোটি ইউরো মূল্যের চুক্তিতে দলে আসা দিয়োমান্দে ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন। তার গোলে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে জয় পায় রিয়াল। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ভিনিসিয়াসের লাল কার্ড।
ব্রাজিলের এই তারকা বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে গোল করেছিলেন। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের ঠিক আগে তিনি ভিয়ারিয়ালের নাথান সালিবার চুল টেনেছেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয় এবং ভিনিসিয়াসকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
ইনস্টাগ্রামে ভিনিসিয়াস লিখেছেন, “আমার দল ও সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।”
১০ জন নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে জয় ধরে রাখে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ। ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার দিয়োমান্দের গোলে পাওয়া সামান্য ব্যবধানের জয় ধরে রাখতে সক্ষম হয় তারা।
তবে জয় পেলেও ভিনিসিয়াসের লাল কার্ড রিয়ালের জন্য তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন এই উইঙ্গার। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ২৫ অক্টোবরের এল ক্লাসিকোতেও খেলতে নাও পারেন তিনি।
রিয়াল মিডফিল্ডার অরেলিয়ান টিচুয়ামেনি বলেন, “রেফারিদের সঙ্গে কী হচ্ছে, এই লাল কার্ডের ব্যাপারটি আমি বুঝতে পারছি না। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জয়।”
ক্লাব সূত্র জানিয়েছে, রেফারিংয়ের প্রতিবাদে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেননি মরিনহো।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিরতির আগে এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ডার্বিতে হারের সময়ও নিজের দলের বিপক্ষে যাওয়া রেফারির সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে তীব্র অভিযোগ করেছিলেন রিয়ালের কোচ।
ম্যাচে শুরু থেকেই খেলতে নেমেছিলেন স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে প্রথমার্ধের বেশির ভাগ সময় ছিল নিরুত্তাপ। এমবাপ্পের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
বিরতিতে দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ছিলেন না স্বাগতিক সমর্থকেরা। তবে ৬৩ মিনিটে দিয়োমান্দের প্রথম গোলের পর উল্লাসে মেতে ওঠেন তারা। ফেদেরিকো ভালভার্দের পাস থেকে নিচু শটে গোল করেন এই তরুণ উইঙ্গার।
এর আগে ১০ জনের আলাভেসকে ২-১ গোলে হারিয়ে এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে জয় এনে দেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে তার হেডে জয়সূচক গোলটি আসে।
এ্যাথলেটিকোর হয়ে প্রথমে গোল করেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো। বিরতির আগে পেনাল্টি থেকে গোল করে আলাভেসের হয়ে সমতা ফেরান লুকাস বোয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিক আলাভেসের অ্যাঞ্জেল পেরেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর শেষ দিকে অ্যালেক্স বায়েনার ক্রস থেকে রোমেরোর হেডে জয় নিশ্চিত হয় এ্যাথলেটিকোর।







