হাম কী?
হাম একটি ভাইরাস জনিত সংক্রামক রোগ যা শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে হাম জটিলতা হিসেবে পরবর্তী সময়ে প্রায়ই নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, অপুষ্টি, মস্তিষ্কের প্রদাহসহ নানা রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে, এমনকি শিশুর মৃত্যুও হতে পারে।
হামের লক্ষণ
• সর্দি ও কাশি
• চোখ লাল
• শরীরে লাল র্যাশ
• খাবারে অরুচি
• চোখ, নাক দিয়ে পানি পড়া
• হঠাৎ তীব্র জ্বর
হামের সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায়
• শিশুকে সঠিক সময়ে (৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ ও ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ) হাম ও রুবেলার (এমআর) টিকা দিন
• পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অভ্যস্ত করুন, নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখুন
• হাম আক্রান্ত বা অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন
• পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন
আক্রান্ত হলে করণীয়
• রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার, বেশি বেশি পানি ও তরল খাবার দিন
• দ্রুত কাছের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন
• আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্যদের থেকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করুন
• শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, চোখের সমস্যা, কান দিয়ে পুঁজ বা অন্য কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন
আপনার শিশু কি হামের টিকা নিতে প্রস্তুত?
শিশুর বয়স কি ৬ মাস থেকে ১০ বছর?
কখন হামের টিকা দেবেন?
• শিশু সুস্থ থাকলে এবং ৩০ দিনের মধ্যে হাম না হলে তাকে টিকা দিন
• যে শিশু আগে হামের কোনো টিকা নেয়নি তাকে টিকা দিন
• প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে অথবা উভয় ডোজ টিকা নিয়ে থাকলেও তাকে টিকা দিন
• শিশুর আগে হাম হলে হাম হওয়ার ৩০ দিন পর টিকা দিন
• যাদের এ মাসে হামের পূর্ব নির্ধারিত টিকার ডোজ আছে তাদের প্রথম ক্যাম্পেইন থেকে টিকা দিন এবং ৩০ দিন পর পূর্ব নির্ধারিত টিকা প্রদান করুন
• যারা গত মাসে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে, তারা ঐ ডোজের ৩০ দিন পর ক্যাম্পেইন থেকে টিকা দিন
• কোনো কারণে অসুস্থ থাকলে, সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর আপনার বাচ্চাকে অবশ্যই টিকা দিন
• যে সব শিশু বর্তমানে হামে আক্রান্ত, সুস্থ হওয়ার ৩০ দিন পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তাকে টিকা দিন
মনে রাখুন:
• টিকা নিরাপদ
• টিকা আপনার শিশুকে জটিলতা থেকে রক্ষা করবে
• সবার অংশগ্রহণেই সম্ভব হামমুক্ত বাংলাদেশ
জনস্বার্থে:
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন







