ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ : বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে বড় জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের কাছে পাত্তাই পায়নি স্বাগতিকরা। আজ ভারতের কাছে ৪৭-১৩ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ আনা আলানসো ফ্রাগুয়া।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার মূল পার্থক্যের জায়গাটি তুলে ধরে কোচ আনা ফ্রাগুয়া বলেন, ‘‘আজকের ম্যাচটি ছিল এমন দুটি দেশের মধ্যে, যার একটি গত কয়েক বছর ধরে সত্যিই খুব পরিশ্রম করছে, সেটি হল ভারত। আর অন্য দেশটিও কঠোর পরিশ্রম করছে তবে ভিন্ন মাত্রায়, সেটি হল বাংলাদেশ। সুতরাং অবশ্যই আমাদের শারীরিক অবস্থা ভিন্ন, হ্যান্ডবলের স্তর ভিন্ন এবং আমরা তা মাঠে দেখতেই পাচ্ছি।”
দলের শারীরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে তিনি পরিষ্কারভাবেই বলেন, ‘‘অবশ্যই, তারা সারা বছর অনুশীলন করছে। বাংলাদেশে আমরা সারা বছর অনুশীলন করছি না, বছরে মাত্র ৩ মাসের মতো। আপনি এই মেয়েদের দেখতে পারেন, তারা শক্তিশালী, তারা প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করছে। আমি মনে করি এটাই আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য।”
মাঠের খেলায় এর প্রভাব নিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘‘আক্রমণে তাদের পরাস্ত করতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছে কারণ তারা শক্তিশালী ছিল এবং রক্ষণে তাদের থামাতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছিল কারণ তারা দ্রুতগামী এবং শক্তিশালী। সুতরাং অবশ্যই এখানে শারীরিক সক্ষমতার অনেক প্রভাব রয়েছে।"
আগামীকাল নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ জিতলেই ফাইনাল নিশ্চিত হবে। মালদ্বীপ ম্যাচ নিয়ে সতর্ক কোচ বলেন, "আমি মনে করি মালদ্বীপ একটি ভালো দল যারা আমাদের বিপক্ষে ভালো খেলতে পারে এবং আমরা যদি ফাইনালে পৌঁছাতে চাই তবে আমাদের মনোযোগী হতে হবে এবং সেরাটা দিতে হবে।"
ফাইনালে উঠলে আবারও শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। টুর্নামেন্ট জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে বাস্তববাদী কোচ বলেন, ‘‘আজকে আমরা যা দেখলাম তারপর টুর্নামেন্ট জেতা অবশ্যই কঠিন। আমার মনে হয় ভারত আমাদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে। তবে আমরা যদি ফাইনালে যাই এবং ভারতের বিপক্ষে খেলি, তাহলে আমরা আবার আমাদের সেরা চেষ্টা করব যাতে আমরা জিততে পারি... আমরা জেতার চেষ্টা করব, কিন্তু অবশ্যই এটা বেশ কঠিন।”
তবে ফাইনালে গেলে ভারতকে চমকে দেওয়ার আশা ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা এই মুহূর্তে আগামীকালকের ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। তারপর যদি আমরা ফাইনালে যাই, অবশ্যই নতুন কিছু করব যাতে আমরা হয়তো ভারতকে চমকে দিতে পারি এবং হয়তো ম্যাচে লড়াই করতে পারি।”
ফিটনেসের এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন স্প্যানিশ এই কোচ। তিনি বলেন, ‘‘এটি আসলে এক, দুই বা তিন মাসের কোনো কাজ নয়। খেলোয়াড়দের বাড়িতেও কাজ করতে হবে যখন তারা ক্যাম্পের বাইরে থাকে। তাদের ফিট থাকতে হবে এবং সারা বছর জিমে যেতে হবে। তবে এটি একটি সাংস্কৃতিক বিষয় এবং আমাদের এটি নিয়ে কাজ করতে হবে।”






