ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বল ও ব্যাট হাতে ভালো শুরুর পরও ম্যাচটি জিততে পারলো না টাইগাররা। ব্যাটিংয়ে বড় জুটি না হওয়ায় বাংলাদেশকে হার বরণ করতে হয়েছে বলে মনে করেন টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ।
গতরাতে আবু ধাবিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বল হাতে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তার বোলিং তোপে ৭ ওভারে ২৪ রানে ৩ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
শুরুর ধাক্কা দারুণভাবে সামাল দিয়ে চতুর্থ উইকেটে ১৭৬ বলে ১৫০ রানের জুটি গড়েন ব্রেন্ডন টেইলর ও ক্রেইগ আরভিন। টেইলর ৮১ ও আরভিনের ৯৩ রানের সুবাদে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান করে জিম্বাবুয়ে। তাসকিন ৪৪ রানে ৩টি, শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান ২টি করে উইকেট নেন।
জবাবে তানজিদ হাসানের ঝড়ো ইনিংসে ৩৯ বলে ৪৭ রানের সূচনা করে বাংলাদেশ। ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে তানজিদ ৪৬ রানে ফেরার পর বাংলাদেশের আর কোন ব্যাটার বড় ইনিংস তো খেলতেই পারেনি, এমনকি বড় কোন জুটিও হয়নি। তাতেই ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় টাইগাররা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন বলেন, ‘আমরা আসলেই ভালো ক্রিকেট খেলিনি। আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলা উচিত ছিল। ২৭২ রান তাড়া করা উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও জুটি করতে পারি নাই। একটা জুটি হলেই খেলাটা বের হয়ে যেতো। আমাদের ব্যাটিংয়ে প্রায়ই ভুল হয়ে থাকে। বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো হয়েছে। আমি মনে করি, আসলে এই ম্যাচটা ব্যাটসম্যানদের জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু তারা পারে নাই।’
লিগ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে আগামী ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ফাইনালে খেলার জন্য বাংলাদেশের জন্য ঐ ম্যাচটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হারের দুঃস্মৃতি ভুলে পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় তাসকিনের।
তিনি বলেন, ‘এখনো একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা চাইবো, ভালোভাবে লড়াই করে ফিরে এসে যেন ফাইনাল খেলতে পারি।’
বল হাতে শুরুতেই জিম্বাবুয়েকে চেপে ধরেছিলেন তাসকিন। কিন্তুম্যাচ হেরে যাওয়ায় হতাশ তাসকিন। তিনি বলেন, ‘যেকোন পরাজয় খেলোয়াড় ও দলের জন্য বড় হতাশার। আসলে যতই ৩ বা ৫ উইকেট পাই, ম্যাচ না জিতলে কখনোই সেটা লাভ হয় না। আমাদের শুরুটা দারুণ হয়েছিল। ব্যাট করার জন্য এই উইকেট বেশ ভালো ছিল। মাঝে জিম্বাবুয়ের বড় একটা জুটি হলো, শুরুর সাফল্যের পর মাঝে তাদের বড় জুটি হয়ে যাওয়ায় তারা অনেকটাই এগিয়ে যায়। পরে জুটি ভাঙ্গার পরও আমার মনে হয়, তাদের মোটামুটি রানের মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পরে ম্যাচ জিততে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, আজকে যেরকম পিচ ছিল, আমরাও বল করেছি, একটু এদিক-ওদিক হলেই শাস্তি পাচ্ছিলাম। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ২৭০ অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। ওদের কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়াকেও চাপে রেখেছিল তারা। কিন্তু এই কন্ডিশনে আমাদের আসলে ভাল করা উচিত ছিল।’



