ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী এবং বার্সেলোনার সাবেক উইঙ্গার পেদ্রো রদ্রিগেজ ৩৯ বছর বয়সে ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।
স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি বার্সেলোনার হয়ে তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন এই ফরোয়ার্ড। এর মধ্যে ২০০৯ ও ২০১১ সালের দুটি শিরোপা এসেছিল পেপ গার্দিওলার অধীনে। এসময় বার্সেলোনা ফুটবল বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করেছিল।
কাতালান ক্লাবটির হয়ে পেদ্রো পাঁচটি লা লিগা শিরোপাও জেতেন। এরপর চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের পর তিনি রোমা এবং সবশেষে লাৎসিওতে খেলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পেদ্রো বলেন, “আমি মনে করি, সময় এসে গেছে। জীবনে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার এবং নতুন একটি অধ্যায় শুরু করার সময় এসেছে।”
“আমি গর্বিত যে আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে যারা আমার পাশে ছিলেন, তাদের সবার জন্যও গর্বিত।”
টেনেরিফে জন্ম নেওয়া পেদ্রো কিশোর বয়সে বার্সেলোনার যুব একাডেমিতে যোগ দেন এবং ২০০৮ সালে মূল দলে তার অভিষেক হয়।
গার্দিওলার অধীনে তিনি এমন একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন, যারা ২০০৯ সালে নজিরবিহীন ছয়টি শিরোপা জিতেছিল।
২০১১ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে বার্সেলোনার জয়ের ম্যাচে গোল করেন পেদ্রো। ক্লাবটির হয়ে ৩২১ ম্যাচে ৯৯ গোল করেন তিনি। বার্সেলোনায় খেলার সময় তার সতীর্থ ছিলেন লিওনেল মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভি হার্নান্দেজসহ আরও অনেক তারকা।
বিদায়ী ভিডিও বার্তায় পেদ্রো বলেন, “বার্সেলোনার ইতিহাসের সেরা দলটির অংশ হতে পারা ছিল বিশেষ এক সৌভাগ্য। আমরা সবকিছু জিতেছি এবং বিশ্বকে মুগ্ধ করেছি।”
স্পেনের হয়ে দেশের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার পাশাপাশি পেদ্রো ২০১২ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছেন।
৬৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৭ গোল করা পেদ্রো বলেন, “একদিন প্রায় বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না আমি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলাম এবং বিশ্বকাপ ফাইনালে একাদশের খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামলাম।”
২০১৫ সালে চেলসিতে যোগ দিয়ে ২০১৭ সালে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতেন পেদ্রো। পরবর্তী দুই মৌসুমে তিনি এফএ কাপ ও ইউরোপা লিগও জেতেন। পেদ্রোর শেষ ক্লাব ছিল লাৎসিও। গত মৌসুম শেষে ইতালির সিরি-আ ক্লাবটি ছেড়ে দেন তিনি। লাৎসিওর হয়ে ২০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন এই স্প্যানিশ তারকা।







