ঢাকা, ২০ অক্টোবর ২০২৬ : বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির মাধ্যমে ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের ব্যর্থ পরিকল্পনা, ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফা শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে ফিফার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
এসব বিষয়ে মোট ৪২টি প্রশ্নের উত্তর আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে দিতে ফিফাকে জানিয়েছে উয়েফা।
উয়েফার মহাসচিব থিওডোর থিওডোরিডিস ১৯ অক্টোবর ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে পাঠানো এক চিঠিতে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্প এবং ফিফার পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে ‘গুরুতর উদ্বেগের’ কথা উল্লেখ করেছেন।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়ার পর ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দিয়েছিল উয়েফা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটালের কাছে বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে রয়েছেন জশ কুশনার, যিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। পরে এফএফই পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে ফিফার আশ্বাস পাওয়ার পর বয়কটের হুমকি প্রত্যাহার করে নেয় উয়েফা। তবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এবং ২০২৭ সালের মার্চে পুনরায় ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার প্রচেষ্টার বিরোধিতা অব্যাহত রেখেছে ইউরোপীয় সংস্থাটি।
ফিফার কাছে পাঠানো চিঠিতে উয়েফা জানতে চেয়েছে, ফিফা কাউন্সিলের সঙ্গে আগাম আলোচনা ছাড়াই থ্রাইভ ক্যাপিটালকে এককভাবে বিনিয়োগের সুযোগ কে দিয়েছিল, এফএফই প্রকল্পের প্রস্তাব প্রথম কখন এবং কার মাধ্যমে উত্থাপিত হয়েছিল এবং বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহারের আহ্বান জানাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টেলিফোনে ইনফান্তিনোকে কী বলেছিলেন।
চিঠিতে থিওডোরিডিস লিখেছেন, “ব্যাখ্যাগুলো কাউন্সিলের সদস্যদের উত্থাপিত বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। চাওয়া তথ্য ও নথিপত্রও সরবরাহ করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “বৈঠকের বিষয়ে ফিফার পরবর্তী প্রকাশ্য বিবৃতিও আমরা লক্ষ করেছি। এফএফই প্রকল্প বাতিল, ভুল স্বীকার এবং সম্ভাব্য প্রশাসনিক সংস্কারের ঘোষণা- এসব সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল কিংবা যথাসময়ে ফিফা কাউন্সিলকে কেন সম্পৃক্ত করা হয়নি, তার উত্তর পাওয়া যায়নি।”
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বৈঠকে লিখিতভাবে প্রশ্ন জমা দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একত্রিত প্রশ্ন ও তথ্য চাওয়ার অনুরোধ সংযুক্ত করেছি।”
তিনি বলেন, “আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিটি প্রশ্নের বিস্তারিত লিখিত উত্তর এবং সংশ্লিষ্ট সব সহায়ক নথিপত্র আগামী ২ নভেম্বর, সোমবারের মধ্যে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
এদিকে ফিফা সভাপতি পদে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে এখনো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রার্থিতা নিশ্চিত হয়নি। ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ নভেম্বর।








