নিত্যপণ্যের বাজারে আসন্ন সংকট মোকাবেলা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এআই ভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণের কথা ভাবছে সরকার। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর এমন সেবার ঘোষণা অতীতেও এসেছে—কার্যত যার কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।
উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব এবং ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণেই ভালো উদ্যোগগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে।
ঘোষণা এসেছিল, অ্যাপ এসেছিল—তারপর?
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চালু করেছিল ‘বাজার দর’ অ্যাপ। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এই অ্যাপের ঘোষণা আসে। এরপর নানা আলোচনা হলেও উদ্যোগটি আর আলোর মুখ দেখেনি। প্রশ্ন হচ্ছে, ঘোষণা দেওয়ার পরও কেন এ ধরনের উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে এলো ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর?
উদ্ভাবক যা বলছেন
‘বাজার দর’ অ্যাপের উদ্ভাবক ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে পণ্যের মূল্য প্রকাশ করতেই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো ধরনের ডেটা এন্ট্রি দেওয়া হয়নি অ্যাপটিতে। ফলে কার্যত এটি এখন বন্ধ।
“প্রায় এক বছর আগে আমরা বাজার দর অ্যাপ তৈরি করেছিলাম এবং এটি ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে বিনামূল্যে গিফট করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা খেয়াল করেছি, কিছুদিন তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সর্বোচ্চ মূল্য প্রতিটি জেলার জন্য আপডেট করেছে, কিন্তু এরপর দেখা যায় কন্টিনিউয়াসলি আপডেট হচ্ছে না।”
বিলবোর্ডে মূল্যতালিকার উদ্যোগ
প্রায় একই ধরনের আরেকটি উদ্যোগ নেন জাকির উদ্দিন আহমেদ। তবে অ্যাপ নয়—তিনি বাজারে বাজারে বিলবোর্ডের মাধ্যমে মূল্যতালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, সরকার প্রদত্ত বাজার দর ও সরবরাহ পরিস্থিতির ডেটা বিশ্লেষণ করে সেখানে মূল্যতালিকা প্রকাশ করা হবে।
শেষ কথা
প্রযুক্তি বাজার নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে—এ নিয়ে দ্বিমত নেই। কিন্তু ডেটা হালনাগাদ, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও ধারাবাহিক নীতিসমর্থন ছাড়া এআই কিংবা অ্যাপ—কোনোটিই ভোক্তার পাতে স্বস্তি এনে দিতে পারবে না। ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।







