সংসদ ভবন, ৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে খাদ্যের অপচয় কমাতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) বিভিন্ন সচেতনতামূলক, প্রশিক্ষণ ও তদারকিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
সোমবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত খাদ্যের অপচয় ও ক্ষতি রোধ করাও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের তথ্য উঠে এসেছে। এ সংখ্যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য অপচয়ের চিত্র তুলে ধরে।
আব্দুল বারী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে তা বিতরণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট হলেও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অপচয় কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন আধুনিক সাইলো ও খাদ্য গুদাম নির্মাণ, খাদ্য সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খাদ্যশস্যের অপচয় ক্রমান্বয়ে কমানো হচ্ছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টন, যা শতকরা হিসাবে ০.২৮৭ শতাংশ। এর আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে অপচয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন বা ০.৩১৬ শতাংশ। ফলে এক অর্থবছরের ব্যবধানে খাদ্যশস্যের অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়ে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) কর্তৃক ২০২৫ সালে আয়োজিত ফুড ভ্যালু চেইন ডেভেলপমেন্ট, ফুড প্রসেসিং ও ফুড সেফটি বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেছেন। এসব প্রশিক্ষণ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, খাদ্য অপচয় হ্রাস এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও জানান, জনসচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পোস্টার ও লিফলেট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে। এসব প্রচারণার বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে বালাইনাশকের ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ প্রতিরোধ, শুঁটকি তৈরিতে কীটনাশক ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ, শাকসবজি ও ফলমূল থেকে বালাইনাশক দূর করার উপায়, রেফ্রিজারেটরে খাদ্য সংরক্ষণের নিয়মাবলি এবং খাদ্য সংরক্ষণে করণীয় বিষয়সমূহ।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্যের অপচয় রোধে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে খাদ্য স্থাপনা মনিটরিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্যের অপচয় কমিয়ে আনতে সরকারের এ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।







