সংসদ ভবন, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস): শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৬৭ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ মন্ত্রণালয়ে ৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আজ জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ও উন্নয়নসহ মোট বরাদ্দের মধ্যে পরিচালন ব্যয় ২৩৬ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২৩১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন, শিল্প সম্পর্ক উন্নয়ন, শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
এছাড়া বাজেট প্রস্তাবে শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সেবা প্রদান, নারী শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা এবং শিশুশ্রম নিরসন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে শ্রমমান (কমপ্লায়েন্স) নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।
বাজেটে কর্মজীবী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও শ্রম বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমও গুরুত্ব পেয়েছে।
নতুন অর্থবছরের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি 'এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ' চালু করা। পাশাপাশি কর্মস্থলে ডে-কেয়ার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করা হবে।
ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সেক্টরভিত্তিক মজুরি বোর্ড গঠন এবং শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ (সংশোধিত ২০২২) আরও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণ এবং ১৩টি জেলা কার্যালয় স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
মানবসম্পদ উন্নয়নে মিরপুর-ইউসেপ শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং 'বাংলাদেশ শোভন কাজের অগ্রগতি' প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত সুরক্ষা স্কিমের একটি পাইলট প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়।








