সংসদ ভবন, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস): দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সরকার একাধিক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে পটুয়াখালী ও যশোরে নতুন শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে। এসব শিল্পনগরীতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, চাঁদপুর ও কুষ্টিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার 'স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬' ঘোষণা করেছে।
আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে এ কথা জানান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম (বাংলাবিজ) চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯টি সম্ভাবনাময় খাতে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের জন্য বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী জানান, পটুয়াখালী ও যশোরে নতুন শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে। এসব শিল্পনগরীতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, চাঁদপুর ও কুষ্টিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রী বলেন, সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে রপ্তানি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হয়।
তিনি বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে আটটি খাতকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্তভাবে পণ্য খালাসের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইলেকট্রনিক্স, স্বর্ণ ও হীরাসহ সম্ভাবনাময় সব রপ্তানিমুখী শিল্পকে কাস্টমস বন্ডেড সুবিধা অথবা শুল্কমুক্তভাবে ব্যাংক গ্যারান্টির আওতায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও স্কুটার উৎপাদনে নীতিগত সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সহজীকরণে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার 'স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬' ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে অর্থ মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে।
তিনি জানান, এ তহবিলের আওতায় বড় শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রী বলেন, এসব ঋণের সুদের হার সহনীয় রাখতে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি প্রদান করবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২৫ লাখেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের বিকাশে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাছে সহজ শর্তে অর্থায়ন পৌঁছে দেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও রপ্তানি সম্প্রসারণে গৃহীত এসব উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








