সংসদ ভবন, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। সেই লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের ধারণক্ষমতা ও সংগ্রহ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপনের সময় খাদ্য খাতের এই বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের বর্তমান ধারণক্ষমতা ২০ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন। এটি আরও বাড়িয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীতকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ৪১ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিম্নআয়ের মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের 'খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি' জোরালোভাবে কার্যকর রাখার কথাও জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫৫ লাখ উপকারভোগী পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে মোট ছয়মাস চাল দেওয়া হবে। প্রতি কেজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১৫ টাকা।
এছাড়া দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে সারাদেশে এক হাজারেরও বেশি বিক্রয়কেন্দ্রের (ডিলার) মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে।
বাজেট বক্তৃতায় আরও জানানো হয়, চালের বাজারদরের লাগাম টেনে ধরতে এবং সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে দেশের ৪১৯টি উপজেলায় অতিরিক্ত ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি) কার্যক্রম চালু করা হবে। এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ভর্তুকি মূল্যে প্রতি কেজি চাল মাত্র ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।
একই সঙ্গে খাদ্যশস্যের বাজারদরে স্বচ্ছতা আনতে এবং যেকোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট রোধে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এজন্য দেশব্যাপী খাদ্যশস্যের বাজারদর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি আধুনিক 'অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা' চালু করেছে সরকার।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এসব সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।








