“স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্সসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই। একজন চিকিৎসক কর্মস্থলে নিরাপদ ও নির্ভর বোধ না করলে তাঁর পক্ষে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা কঠিন। একজন রোগীর মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়। একজন চিকিৎসকও কখনো কোনো রোগীর অমঙ্গল কামনা করেন না। বরং নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে প্রতিটি রোগীর জীবন রক্ষায় চিকিৎসকরা নিরন্তর চেষ্টা করে যান।
দুঃখজনকভাবে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নিপীড়ন ও হামলার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের ওপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনায় চিকিৎসকরা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রোগীর মৃত্যুতে স্বজনদের শোক ও বেদনা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই শোক কখনোই চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার বৈধতা দিতে পারে না। রোগীর মৃত্যু কিংবা চিকিৎসা সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিএমডিসিসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আছে কিন্তু সেই অভিযোগ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে তদন্ত না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
চিকিৎসাসেবার মতো একটি মানবিক ও গুরুত্বপূর্ণ পেশায় কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের ওপর আঘাত নয়; এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারকেও হুমকির মুখে ফেলে।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে চিকিৎসক নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে-এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো পরিকল্পিত বা সংঘবদ্ধ অপতৎপরতা রয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা জরুরি। একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা অস্থিতিশীল হলে কারা লাভবান হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় নিতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঘটনা থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সংঘটিত প্রতিটি চিকিৎসক নিপীড়নের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, যাতে তারা ভয় ও অনিরাপত্তার মধ্যে নয়, বরং নিরাপদ পরিবেশে মানুষের সেবা করতে পারেন।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দেওয়া মানে শুধু একজন চিকিৎসককে নিরাপত্তা দেওয়া নয়; এটি দেশের প্রতিটি মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারকে সুরক্ষিত করা।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। একইসাথে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।”
বার্তা প্রেরক
(মুহম্মদ মুনির হোসেন)
সহ-দফতর সম্পাদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি