১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা: ...
রাজনীতি

চিকিৎসক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

Md. Ibrahim Mollahঢাকা

ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ড্যাব-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বক্তব্য

চিকিৎসক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য


ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ড্যাব-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বক্তব্য
আজ এখানে আমার সামনে যারা উপস্থিত রয়েছেন, সবাই আপনারা সবাই স্বনামধন্য চিকিৎসক। আমি চিকিৎসক নই এবং আজ আমি চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে একজন অচিকিৎসক ব্যক্তির একটি উক্তি উল্লেখ করে চিকিৎসকদের সম্মেলনে কয়েকটি কথা বলতে চাই।
আপনারা অনেকেই হয়তো তার নামের সঙ্গে পরিচিত। অচিকিৎসক ব্যক্তিটির নাম টমাস এডিসন, তিনি একজন মার্কিন বিজনেসম্যান এবং উদ্ভাবক ।
উনিশ শতকের শুরুর দশকে টমাস এডিসন বলেছিলেন, অর্থাৎ 'ভবিষ্যতের চিকিৎসক কোনো ওষুধ দেবেন না; বরং তিনি রোগীদের মানবদেহের যত্ন ও খাদ্যাভ্যাস এবং রোগের কারণ ও প্রতিরোধের বিষয়ে আগ্রহী করে তুলবেন"।

টমাস এডিসনের এই চিন্তার সঙ্গে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য সেবার নীতির সঙ্গে একটি মিল খুঁজে পাওয়া যায়। চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর। বর্তমান সরকার মনে করে, মানুষকে যদি শুরুতেই রোগের উৎপত্তি কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করা যায় তাহলে শুরুতেই সহজেই অনেক রোগের নিরাময় সম্ভব। সে কারণে বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি বর্তমান সরকার নতুন করে আরো এক লক্ষ হেলথ ওয়ার্কার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে যারা নাগরিকদেরকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সতর্ক এবং সচেতন করবেন।
তবে হেলথ ওয়ার্কার বা স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসক নেতৃত্ব দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে আমি আমার একটি উপলব্ধির কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীগণ রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকবেন কিনা কিংবা কতটা সম্পৃক্ত থাকবেন এ নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা রয়েছে। এর পক্ষে বিপক্ষে নানামতও রয়েছে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি একট গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সকল কাজকেই প্রভাবিত করে সেহেতু শিক্ষার্থী শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী সবাই যার যার মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকা কিংবা রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা অযৌক্তিক নয়।

তবে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আপনাদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
১. স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ,
২. সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছরে উন্নীত করা,
৩. চিকিৎসকদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করা,
৪. চিকিৎসক এবং রোগী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সময়োযোগী স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন,
৫. উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ ভাতা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা,
৬. বেসরকারি খাতে কর্মরত লক্ষাধিক চিকিৎসকের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রণয়ন এবং
৭. শুধুমাত্র রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা।
আপনাদের এইসব প্রস্তাবনা অযৌক্তিক নয়। ইতোমধ্যেই শিশু হাসপাতালসহ ঢাকার বাইরে বেশ কিছু বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। আপনাদের উপস্থাপিত অন্যান্য প্রস্তাবগুলোও ইতিবাচকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।

আপনারা জানেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছে। পেয়েছে দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকে সরকার সফলভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
এমন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র রাজনীতি শাসন প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ করেছি, একটি চক্র সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়। তবে ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।
সরকার শিক্ষা স্বাস্থ্য জ্বালানিসহ প্রতিটি সেক্টরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বনির্ভর করতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলেছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আধু এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বর্তমান সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ আগামী পাঁচ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি, যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ড চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ সজ্জা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকগণ যদি সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদেরকে নিবেদিত না রাখেন তাহলে শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নতি দিয়েই সফলতা আসবেনা।

আমি বিশ্বাস করি, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনাদেরকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য একদিকে সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অপরদিকে চিকিৎসক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা তৈরী করে।
এ ক্ষেত্রে জনগণ চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা প্রত্যাশা করি।

আসুন, আমরা সকলে মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে হবে না।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করতে অনুগ্রহ করে সাইন ইন করুন

loading

সম্পর্কিত নিবন্ধ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর শোকবার্তা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর শোকবার্তা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর শোকবার্তা বিএনপি’র প্রেস উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান এর ছোট বোন শিউলী খানম ব্রেইন স্ট্রোক করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল ১১ টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শিউলী খানম এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, “প...

8/19/2026

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যদের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যদের সাক্ষাৎ

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জয়নাব তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাওয়া নতুন চার সদস্য।

8/18/2026

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা, বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।

8/18/2026

রাজস্ব সম্মেলনে যোগদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজস্ব সম্মেলনে যোগদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’ এ যোগ দিয়েছেন।

8/18/2026

জনগণের সরকারের ১৮০দিন || প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে ই-বুক প্রকাশ

জনগণের সরকারের ১৮০দিন || প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে ই-বুক প্রকাশ

জনগণের সরকারের ১৮০দিন। বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক সরকার। সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। সেই জানার আগ্রহ পূরণের উদ্দেশ্য থেকেই সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সাফল্য এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে এই ই-বুক প্রকাশ করা হয়েছে। এই ই-বুকে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ, সংস্কার ও অর্জনের একটি তথ্যনির্ভর চিত...

8/17/2026

শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, ‘ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাঠের সার্বিক সুবিধাদি বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে ১৭ কোটি টাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।’

8/16/2026

বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

8/16/2026

দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা দেখতে চায় প্রিয় মাতৃভূমিকে পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে।

8/15/2026