১৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা: ...
স্বাস্থ্য

চিকিৎসক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

Md. Ibrahim Mollahঢাকা

ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ড্যাব-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বক্তব্য

চিকিৎসক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য


ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ড্যাব-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বক্তব্য
আজ এখানে আমার সামনে যারা উপস্থিত রয়েছেন, সবাই আপনারা সবাই স্বনামধন্য চিকিৎসক। আমি চিকিৎসক নই এবং আজ আমি চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে একজন অচিকিৎসক ব্যক্তির একটি উক্তি উল্লেখ করে চিকিৎসকদের সম্মেলনে কয়েকটি কথা বলতে চাই।
আপনারা অনেকেই হয়তো তার নামের সঙ্গে পরিচিত। অচিকিৎসক ব্যক্তিটির নাম টমাস এডিসন, তিনি একজন মার্কিন বিজনেসম্যান এবং উদ্ভাবক ।
উনিশ শতকের শুরুর দশকে টমাস এডিসন বলেছিলেন, অর্থাৎ 'ভবিষ্যতের চিকিৎসক কোনো ওষুধ দেবেন না; বরং তিনি রোগীদের মানবদেহের যত্ন ও খাদ্যাভ্যাস এবং রোগের কারণ ও প্রতিরোধের বিষয়ে আগ্রহী করে তুলবেন"।

টমাস এডিসনের এই চিন্তার সঙ্গে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য সেবার নীতির সঙ্গে একটি মিল খুঁজে পাওয়া যায়। চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর। বর্তমান সরকার মনে করে, মানুষকে যদি শুরুতেই রোগের উৎপত্তি কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করা যায় তাহলে শুরুতেই সহজেই অনেক রোগের নিরাময় সম্ভব। সে কারণে বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি বর্তমান সরকার নতুন করে আরো এক লক্ষ হেলথ ওয়ার্কার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে যারা নাগরিকদেরকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সতর্ক এবং সচেতন করবেন।
তবে হেলথ ওয়ার্কার বা স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসক নেতৃত্ব দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে আমি আমার একটি উপলব্ধির কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীগণ রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকবেন কিনা কিংবা কতটা সম্পৃক্ত থাকবেন এ নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা রয়েছে। এর পক্ষে বিপক্ষে নানামতও রয়েছে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি একট গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সকল কাজকেই প্রভাবিত করে সেহেতু শিক্ষার্থী শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী সবাই যার যার মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকা কিংবা রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা অযৌক্তিক নয়।

তবে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আপনাদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
১. স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ,
২. সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছরে উন্নীত করা,
৩. চিকিৎসকদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করা,
৪. চিকিৎসক এবং রোগী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সময়োযোগী স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন,
৫. উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ ভাতা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা,
৬. বেসরকারি খাতে কর্মরত লক্ষাধিক চিকিৎসকের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রণয়ন এবং
৭. শুধুমাত্র রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা।
আপনাদের এইসব প্রস্তাবনা অযৌক্তিক নয়। ইতোমধ্যেই শিশু হাসপাতালসহ ঢাকার বাইরে বেশ কিছু বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। আপনাদের উপস্থাপিত অন্যান্য প্রস্তাবগুলোও ইতিবাচকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।

আপনারা জানেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছে। পেয়েছে দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকে সরকার সফলভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
এমন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র রাজনীতি শাসন প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ করেছি, একটি চক্র সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়। তবে ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।
সরকার শিক্ষা স্বাস্থ্য জ্বালানিসহ প্রতিটি সেক্টরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বনির্ভর করতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলেছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আধু এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বর্তমান সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ আগামী পাঁচ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি, যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ড চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ সজ্জা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকগণ যদি সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদেরকে নিবেদিত না রাখেন তাহলে শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নতি দিয়েই সফলতা আসবেনা।

আমি বিশ্বাস করি, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনাদেরকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য একদিকে সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অপরদিকে চিকিৎসক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা তৈরী করে।
এ ক্ষেত্রে জনগণ চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা প্রত্যাশা করি।

আসুন, আমরা সকলে মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে হবে না।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত নিবন্ধ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দু’দিন ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দু’দিন ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে দু’দিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা করে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান

10/14/2026

নারীর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ শুধু ব্যয় নয়, জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি : ডা. জুবাইদা রহমান

নারীর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ শুধু ব্যয় নয়, জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি : ডা. জুবাইদা রহমান

নারীর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ শুধু স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নয়। এটি মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

10/13/2026

নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে নারীস্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

10/12/2026

প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করছে বাংলাদেশ: ডা. জুবাইদা

প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করছে বাংলাদেশ: ডা. জুবাইদা

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ রোগ প্রতিরোধ, রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং ধারাবাহিক সেবাকে কেন্দ্র করে তার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করছে। এ রূপান্তরের কেন্দ্রে থাকছে আরও শক্তিশালী ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মী এবং পেশাদার ধাত্রী।

9/24/2026

প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও

প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও

বিএনপি চেয়ার‌ম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক সুজম্যান

9/23/2026

সবার জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

সবার জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা, সেবাকে মানুষের বাড়ির কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

9/13/2026

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসব্যাপী অভিযান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসব্যাপী অভিযান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।

9/12/2026

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

9/8/2026