ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের মতে,বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো দেশের অন্যান্য খেলার উন্নয়নেও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
গতকাল রাতে 'ডমেস্টিক থ্রি' নামে বিসিবির নতুন ঘরোয়া টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন আমিনুল। এই টুর্নামেন্ট টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও চার দিনের ক্রিকেটকে একটি কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে।
আমিনুল বলেন, এই নতুন কাঠামো বছরের ছয় থেকে আট মাস ঘরোয়া ক্রিকেটকে সচল রাখতে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাফল্য ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
তিনি বলেন, 'এই কাঠামো শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেটকেই এগিয়ে নেবে না। দেশের অন্যান্য খেলাকেও অনুপ্রাণিত করবে।'
প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন এই কাঠামোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো- ক্রিকেটারদের বছরের বেশিরভাগ সময় খেলার মধ্যে রাখা।
তিনি বলেন, 'আমরা যদি বছরের প্রায় ছয়, সাত বা আট মাস ঘরোয়া ক্রিকেট চালু রাখতে পারি, তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বছরের পর বছর ধরে আমরা যেসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে আসছি, সেগুলো ধীরে ধীরে সমাধান হবে।'
আমিনুল হক আরও বলেন, জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্বকারী খেলোয়াড় এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায়ই বড় ধরনের ব্যবধান দেখা যায়। নিয়মিত প্রতিযোগিতা হলে এমন পার্থক্য কমে আসবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি, যখন আমরা এই ঘরোয়া ক্রিকেট কর্মসূচি শুরু করব, তখন এই ধারণাটি বদলে যাবে। আমরা চাই আমাদের ক্রিকেটাররা মাঠেই থাকুক এবং নিয়মিত ম্যাচ চলতে থাকুক, যাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমরা যে সাফল্য প্রত্যাশা করি তা অর্জন ও ধরে রাখা সম্ভব হয়।'
খেলার উন্নয়নে অবদানের জন্য বিসিবি পরিচালক, স্পন্সর, জাতীয় ক্রিকেটার এবং এই উদ্যোগের সাথে জড়িত সকলকে এবং বিশেষ করে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, তামিম এবং অন্যান্য ক্রিকেট কর্মকর্তাদের সাথে ক্রিকেটের মানোন্নয়ন, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাটিকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং দেশে এর অবস্থান সুসংহত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ক্রিকেটের ক্ষেত্রে গৃহীত এই পদক্ষেপ অন্যান্য খেলার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা ক্রিকেট-ফুটবল-হকি-ব্যাডমিন্টন-অ্যাথলেটিকস-মার্শাল আর্ট এবং সাঁতার, সব খেলাকেই সমানভাবে এগিয়ে নিতে চাই। সব খেলাই আমাদের নিজস্ব এবং আমরা সবাই বাংলাদেশি।'
খেলাধুলার বৃহত্তর সামাজিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া কার্যক্রম পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি, খেলাধুলা আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে গুণগত পরিবর্তন আনতে পারে। আমরা প্রতিহিংসার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও ক্রীড়াবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।'
'ডমেস্টিক থ্রি'-তে অংশগ্রহণকারী ছয়টি দলকে ক্রিকেটের বাইরে অন্যান্য খেলার উন্নয়নের প্রতিও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'আমরা চাই প্রতিনিধিত্বকারী ছয়টি দল ক্রিকেটের গণ্ডি পেরিয়ে সব খেলার দিকেই নজর রাখুক।'







