ঢাকা, ২১ অক্টোবর ২০২৬ : দেশের অ্যাথলেটিকসে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা, আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি। এরই অংশ হিসেবে আগামী ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬। তিন দিনের এই আসরে ৫৭টি সংস্থার ৫৬৫ জন অ্যাথলেট অংশ নেবেন।
প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশন জানিয়েছে, এবারের আয়োজন কেবল পদক জয়ের লড়াই নয়; বরং দেশের অ্যাথলেটিকসে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে বের করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। পুরুষদের ২২টি ও নারীদের ১৮টি- মোট ৪০টি ইভেন্টে লড়বেন প্রতিযোগীরা। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ৪৩১ জন পুরুষ ও ১৩৪ জন নারী অ্যাথলেট। তাদের সঙ্গে থাকবেন ১১০ জন ম্যানেজার ও কোচ।
ফেডারেশন সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাবের জানান, প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রথমে লক্ষ্মীপুর ও যশোরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে আরও ১১টি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা সম্ভাবনাময় অ্যাথলেটদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার আওতায় আনতে চায় ফেডারেশন।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ আবাসন ও প্রশিক্ষণসুবিধার অভাব। জাতীয় স্টেডিয়ামের পাশে ভলিবল ফেডারেশনের জায়গায় চার থেকে পাঁচতলা একটি ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে ফেডারেশন। প্রস্তাবিত ভবনে নারী ও পুরুষ অ্যাথলেটদের পৃথক আবাসনের পাশাপাশি জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থাও করতে চায় সংস্থাটি।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এবারের প্রতিযোগিতায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নির্ভুল ফলাফলে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন জানান, অকেজো অবস্থায় থাকা ইলেকট্রনিক ফটোফিনিশিং ব্যবস্থা বুয়েটের প্রকৌশলীদের সহযোগিতায় বিনা খরচে সচল করা হয়েছে। ফলে দৌড়ের ইভেন্টগুলোতে সময় নির্ধারণ ও ফলাফল প্রকাশে প্রযুক্তিনির্ভও ব্যবস্থা ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
প্রতিযোগিতার সাতটি থ্রো ইভেন্ট ২৩ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ২৪ অক্টোবর ভোর ৫টায় পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে হবে ম্যারাথন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে ২৩ অক্টোবর বিকেল ৪টায়। এবারের আসরের টাইটেল স্পন্সর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং পাওয়ার্ড বাই আনোয়ার ইস্পাত।
প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের জন্য যথাক্রমে ৬ হাজার, ৫ হাজার ও ৩ হাজার টাকা অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে। রেকর্ড গড়া অ্যাথলেট পাবেন ২০ হাজার টাকা। প্রতিযোগিতার সেরা অ্যাথলেটকে একটি মোটরসাইকেল উপহার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে ফেডারেশন।
সফল আয়োজনের পাশাপাশি প্রতিভা অন্বেষণ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আবাসন এবং বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা- এই চারটি ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারলে জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স দেশের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, প্রতিযোগিতার মাঠে উঠে আসা সম্ভাবনাগুলোকে কতটা ধারাবাহিকভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাফল্যে রূপ দিতে পারে ফেডারেশন।



